এইমাত্র পাওয়া

স্বপ্ন পুরণের আশায় ৩৪ দিন ধরে প্রেসক্লাবের সামনে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

প্যানেলের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ৩৪তম দিনেও অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে ২৫তম দিনেও আমরণ অনশন পালন করছেন ২০১৮ সালে নিয়মিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা।

শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নিয়োগ প্রত্যাশী প্রার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

২০১৮ সালে নিয়মিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা জানান, ২০১৮ সালের নিয়মিত শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিপরীতে ২৪ লাখ প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এরপর ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ওই পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ হন ৫৫ হাজার ২৯৫ জন। শূন্যপদ বাকি রেখেই নিয়োগ দেওয়া হয় মাত্র ১৮ হাজার ১৪৭ জনকে। উত্তীর্ণ ৩৭ হাজার ১৪৮ জন প্যানেলভুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও তাদের বিষয়ে কোনও বিবেচনা করা হয়নি।

তারা জানান, অন্যদিকে ২০১৪ সালে স্থগিত করা ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৯ হাজার ৭৮৮ জনকে প্যানেলে নিয়োগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশসহ রাজধানীসহ জেলায় জেলায় আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ডিও নিয়ে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আবেদন জানান তারা।

আন্দোলনকারীরা বলেন, গত ৬ বছরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটিমাত্র শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এ পরীক্ষায় ২৪ লাখ প্রার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫৫ হাজার লিখিত পরীক্ষায় পাস করলেও ১৮ হাজার প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়া হয়।

তারা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকলেও প্যানেলভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে থেকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। আগে এ পদ্ধতি অনুসরণ হলেও গত ৯ মাস থেকে যৌক্তিক দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। এ কারণে বাধ্য হয়ে আমরা লাগাতার কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।

আন্দোলনকারীরা জানান, ২০১০, ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে প্যানেল গঠন করা হলেও ২০১৮ সালের নিয়োগ কার্যক্রমে প্যানেল গঠনের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

সংগঠনের সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, রিট জটিলতার কারণে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে কোনো সার্কুলার হয়নি। এর মধ্যে অনেকের সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যালয়ে শূন্য আসনের ভিত্তিতে এই ৩৭ হাজার ১৪৮ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করতে হবে।

এসব কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর কাঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও জানান নিয়োগ প্রত্যাশী প্রার্থীরা।

এসময় ২০১৮ সালের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্যানেল প্রত্যাশী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু হাসান, প্রচার সম্পাদক মো. ইলিয়াস ভূ্ঁইয়া, মিরাজুল ইসলাম প্রমুখ নিয়োগ প্রার্থী বক্তব্য রাখেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.