সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষক শিক্ষার্থীরা মেতেছে খেলার উৎসবে। কেউ মগ্ন ছবি আঁকায়, অনেকে কাঁথা সেলাই পর্যন্ত করছে। বিদ্যালয়ের বাঁধাধরা গণ্ডির বাইরে শিক্ষা নিতে আসা এসব শিশুরা সবাই অটিস্টিক। এখানে রয়েছে খেলাধুলার জায়গা, ক্যাফেটেরিয়া ও লাইব্রেরি। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপদে স্কুলে যাওয়ার জন্য রয়েছে স্কুল বাসের ব্যবস্থা।
জানা যায়, শিক্ষার্থীরা এখানে হাতে কলমে কারিগরি শিক্ষাও পায়। কাঁথা সেলাই, ঈদকার্ড, টাই-ডাই থ্রি পিস, ব্লক থ্রি পিস, স্টিচ থ্রি পিস, ব্লক ও এপ্লিকের চাদর, শাড়ি, শো-পিস, রুমাল, ন্যাপকিন, টেবিলম্যাট, মালাসহ শিক্ষা উপকরণ তৈরির প্রশিক্ষণ পায় তারা।
এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী আদিবা ইবনাত পশলা বলে, “আমি নবম-দশম নয়ন তারা ক্লাসের ছাত্রী। আমি ভোকেশনালে এসে সেলাই, ব্লক, পেইন্ট করি।“
আরও জানা যায়, প্রভাতি ও দিবা নামে দুইটি শাখায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতিদিনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬৬ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে ৬৬ শিক্ষক। এ প্রতিষ্ঠানের যে সব শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় ভালো তাদের জন্য রয়েছে আলাদা ব্যাচের সুবিধা। বিশেষ পরিচর্যায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের সেখানে পড়ানো হয়। চলতি বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯ জন পিইসি, ছয় জন জেএসসি এবং দুই জন এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ন হয়েছে।
দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ কেউ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অফিসের কাজ করছে, কেউ কেউ কম্পিউটারে লেখার কাজ করছে, কেউ বা ফটোকপি ও ল্যামিনেট করার কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ক মরিয়ম মনোয়ার বলেন, “এখানে আমাদের বাচ্চাদের বুঝে কাজ করতে হয়। শিক্ষার্থীরা কেমন, তারা কীভাবে পড়তে, কাজ করতে পছন্দ করে সেভাবেই করা হয়।”
এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারপারসন ডা. রওনাক হাফিজ বলেন, “ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এই সংস্থার আরও শাখা এবং একটি সাধারণ স্কুল স্থাপন করতে চাই।
“প্রাপ্তবয়স্ক অটিস্টিক ব্যক্তিদের জন্য আবাসিক হোস্টেলের ব্যবস্থা করতে চাই। বিভিন্ন পর্যায়ে অধিক সক্ষম অটিস্টিক প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করাও আমাদের লক্ষ্য।”
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
