ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারাঃ
“অটোপাস বলে বিদ্রুপ করার কিছু নেই”
================================শিক্ষাবার্তা ডেস্কঃ
এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটোপাস বলে বিদ্রুপ করার কোনো সুযোগ নেই। তারা কিন্তু পরীক্ষা দেয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাই তাদের কোনোভাবেই দোষ নেই। ২৮ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কলা অনুষদ আয়োজিত ‘এইচএসসি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষাঃ সমস্যা ও সম্ভাবনা’ বিষয়ে এক অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন।
কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক তাহমিনা আহমেদের সভাপতিত্বে এই গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধ্যাপক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টির পরিচালক ড. ফকরুল আলম।
তিনি বলেন, ‘আমি ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে। কিন্তু প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে এজন্য যথেষ্ট হোমওয়ার্ক করতে হবে। কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই পরীক্ষা যেন গতানুগতিক না হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে ৭১ সালের পরিস্থিতির সাথে তুলনা করা মোটেই ঠিক হবে না। ’
গোলটেবিল আলোচনায় অতিথি হিসেবে অংশ নেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ এবং ভাসানটেক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, সরকার একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জীবনের চেয়ে পরীক্ষা বড় নয়। যেহেতু এই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের একটি বিষয় আছে, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হওয়াটা প্রয়োজন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল মনুষ্যসৃষ্ট সংকট। আর এটি প্রাকৃতিক। প্রকৃতি সৃষ্ট করোনা নামের এই মহামারির সংক্রমণ ঠেকাতেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বলেন, সরকার দুটি সিদ্ধান্ত খুব ভালো নিয়েছে। একটি হলো –যথাসময়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে দেয়া। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি খুব জটিল ছিল। আরেকটি হলো- উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা না নেয়ার ঘোষণা। তিনি বলেন, ‘আমি বরাবর সব পরীক্ষায় ভালো করেছি। আমি পরীক্ষার পক্ষেরই মানুষ। এবার এইচএসসির ক্ষেত্রে একটু অন্যরকম হলো। তবে পরীক্ষার্থীরা তাদের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিল। মানে তাদের পড়াশোনা যা করার, তা কিন্তু করেছিল। এই পরীক্ষা লাগে পরবর্তী পর্যায়ে ভর্তির জন্য। কিন্তু আমরা জানি সব বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা আলাদা পরীক্ষা নেয়। কাজেই এইচএসসির ফলাফলটা শুধু প্রাথমিক একটা বাছাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চাইলে ভর্তির প্রক্রিয়া কিছুটা শিথিল করে দিতে পারে। ’
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ নেহাল আহমেদ বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমি আমার সন্তানকে কোনোভাবেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠাবো না। শুধুমাত্র সিলেবাস মানার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের জীবনকে আমি অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারি না। ’
৮ অক্টোবর এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের পেছনে অন্যান্য দেশের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর কথায় সহমত পোষণ করে বৈশ্বিক কিছু তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন ভাসানটেক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহমুদা খাতুন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের কোভিড এডুকেশন ট্র্যাকারের মাধ্যমে ১০০টি দেশের ওপর এক জরিপের কথা উল্লেখ করেন। সেই জরিপে দেখা গেছে, এসব দেশে জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষাগুলো বাতিল করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আকন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ পরিচালক সাজেদ ফাতেমী।
শেয়ার করুন এই পোস্ট
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Print (Opens in new window) Print
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
