এইমাত্র পাওয়া

স্মার্টফোন হ্যাক হওয়ার লক্ষ্মণ ও করনীয়

অনলাইন ডেস্কঃ

মোবাইল বা স্মার্টফোন আমাদের জীবনে জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে। মোবাইল ফোনের আবিষ্কারের প্রধান কারণ ছিল যোগাযোগের মাধ্যমকে সহজ থেকে সহজতর করা। কিন্তু আজ একবিংশ শতাব্দীতে মোবাইল ফোন শুধুই যোগাযোগের জন্য ব্যবহার হচ্ছে না; মোবাইল ফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে গিয়েছে।

আজ আমরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কেনাকাটা থেকে শুরু করে মোবাইল ফোনকে আমাদের নিজের পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট-এর জায়গায় ব্যবহার করছি। এই মোবাইল আমরা দেশ-বিদেশের বন্ধু, আত্মীয় সবার সাথে যোগাযোগ করতে পারছি সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে। এই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা টাকা-পয়সা লেনদেন করছি, নিজের ব্যক্তিগত অনেক কিছুই জমা করছি এই মোবাইল ফোনের মধ্যেই।

সাইবার জগতে এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে থাকা নিয়ে ক্র্যাফের সভাপতি জেনিফার আলম যুগান্তরকে বলেন, অনলাইন জগতে সতর্ক থাকাটা এখন নেটিজেনদের জন্য বাধ্যতামূলক। আমরা অনলাইন জগতে যত বেশি সতর্ক থাকতে পারবো ততই আমরা নিরাপদে থাকতে পারবো। মূলত আমরা অনেক সময় নিজের ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করে থাকি এগুলো করা যাবে না, স্মার্টফোনে অ্যাপ ইন্সটল করার ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক থাকতে হবে। একটি অ্যাপ ইন্সটল করিয়ে হ্যাকার ভিকটিমের পুরো ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে আমাদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যদি এমন কোন কিছুর শিকার হয় তাদের সেই অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যেতে হবে।

তিনি বলেন, সাধারণত আমরা জানি যেসব জিনিস মানুষের মাঝে বেশি জনপ্রিয়, সেসব জিনিসের দিকে অসাধু ব্যক্তি বা দলের নজরও থাকে অনেক বেশি। তেমনি স্মার্টফোনেও রয়েছে সেই তালিকায়। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পাতা থেকে শুরু করে হ্যাক করা বা ইউজারের ডেটা নিয়ে সেটি বিক্রয় করা কোন কিছুই বাদ রাখেনি তারা। তাদের ফাঁদ হিসাবে অনেক কিছু ব্যবহার করলেও যে কৌশলটি ব্যবহার করে তারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় বা ইউজারদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারে তা হচ্ছে “স্মার্টফোনের অ্যাপ বা অ্যাপ্লিকেশন”।

স্মার্টফোনের নিরাপত্তার ব্যাপারে ক্র্যাফের আইটি অ্যানালিস্ট রাইয়ান মালিক বলেন, আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে নেটিজেনদের প্রায় সবাই স্মার্টফোনে ইউজার কিন্তু সেই তুলনায় সাইবার স্পেসে সচেতন নাগরিক খুবই কম, যার সুযোগ নিচ্ছে হ্যাকাররা। বেশিরভাগ ব্যক্তি পর্যায়ের আক্রমণে হ্যাকাররা প্রধানত অস্ত্র সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং; তারা কিছু লোভনীয় ফাঁদ তৈরি করে রাখে যেমন, লটারি, লোভনীয় বিজ্ঞাপন অথবা বলে থাকে আপনার কিছু খারাপ ছবি এখানে ভাইরাল হয়েছে এই লিংকে ক্লিক করে দেখুন, এমন অনেক ফাঁদ তাদের করা থাকে।

স্মার্টফোনে অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করার সময় আমাদের অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে, যে অ্যাপ্লিকেশনটি ইন্সটল করবো সেটি কী ধরণের পারমিশন চাচ্ছে তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং অহেতুক কোন পারমিশন চাচ্ছে কি না সেটি লক্ষ্য রাখতে হবে। সন্দেহ হলে পারমিশন বন্ধ করে দিতে হবে। লিংক ও অহেতুক বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করাই ভালো। ভালো একটি এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন।

আসুন জেনে নেই স্মার্টফোন হ্যাক হওয়ার লক্ষণ- 

১। রেগুলার ব্যবহার করা অ্যাপসগুলো চালাতে চালাতে হটাৎ হটাৎ বন্ধ হয়ে যায় অথবা বন্ধ থেকে ওপেন হয়ে যায়
২। খুব তাড়াতাড়ি মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া
৩। ব্যাকগ্রাউন্ডে এমন কিছু অচেনা প্রসেস চলবে যা আপনি বা আপনার ব্যবহার করা কোন আপ্লিকেশনের সাথে যায় না
৪। ফোন আগের থেকে স্লো হয়ে যাবে ও অপারেশন স্পিড কমে যাবে
৫। ডেটা ট্রান্সফার (আপলোড) বেশি হয়ে যাবে
৬। ফোন স্বাভাবিক সময়ের থেকে বেশি গরম হবে
৭। ফোন অটোমেটিক রি-বুট/রিস্টার্ট হবে
৮। অটোমেটিক নাম্বার ডায়েল হবে
৯। অটোমেটিক অ্যাপস অন হবে
১০। অচেনা নাম্বার রিসেন্ট কলে খুঁজে পাওয়া ও এটার জন্যে টাকা কাটা
১১। ফোনে অনুভূত টেক্সট মেসেজ খুঁজে পাওয়া যা আপনি সেন্ড বা রিসিভ করেননি
১২। মাঝে মাঝে ফোন সুইচ অফ করতে চাইলেও অফ না হওয়া
১৩। ফোন কল চলাকালীন অদ্ভুত নয়েজ ও ইকো হওয়া
১৪। অদ্ভুত ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া ব্রাউজার হিস্টোরিতে
১৫। স্মার্টফোনে রেগুলারের তুলনায় বেশি ডেটা ইউজ হওয়া
১৬। নতুন নতুন পোপ-আপ শো হওয়া
১৭। ইনফেক্টেড মোবাইলে যুক্ত মেইল থেকে মেইল যাওয়া ও স্প্যাম মেইল হিসাবে ডিটেক্ট হওয়া
১৮। হটাৎ হটাৎ কল ড্রপ হওয়া (মাঝে মাঝে নেটওয়ার্কের জন্যেও হয়)।

সতর্কতাই আমাদেরকে পারে প্রাথমিকভাবে নিরাপদ রাখতে। জরুরি প্রয়োজনে বিনামূল্যে কল করতে পারেন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারে


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.