এইমাত্র পাওয়া

কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি খাটো করে দেখা অনুচিত

কোভিড-১৯ মহামারীর কবলে নিস্তব্ধ আজ গোটা বিশ্ব। কোন প্রতিষেধক বাজারে না আসাই এ মহামারীর তান্ডব ক্রমশই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমাদের দেশেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিপদ মোটেই নিন্মগামী নয়। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, থেমে নেই মৃত্যুর সংখ্যাও। টানা প্রায় চার মাস এই মহামারীর তান্ডব চলতে থাকায় এখন এর সংক্রমণকে খাটো করে দেখতে শুরু করেছেন আমাদের দেশের অনেক মানুষ। এখন এরকম একটা ধারণা সবার মাঝে তৈরি হচ্ছে যে- বিপদকে কাটিয়ে উঠা গেছে, বিশ্বের সংক্রমিত দেশগুলির তুলনায় আমাদের দেশ এখনও ভালো। এ ধারণা মোটেই সমীচীন নয়।

দেশে ইতিমধ্যেই সংক্রমিতের সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৪ হাজার অতিক্রম করেছে। সংক্রমণের গতি কমার বদলে ক্রমশ বাড়তেই আছে। এদিকে তথ্য যে দেশের এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশজোড়া লকডাউনকে বিন্দুমাত্র শিথিল করা অনুচিত। লকডাউনের বিধি শিথিল হতে পারে জেলা, উপজেলা বা স্থানীয় পরিস্থিতি দেখে। কিন্তু এতে কোভিড-১৯ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা মোটেই কমানো উচিত নয়।

যত কম পরীক্ষা হবে, তত কম মিলবে আক্রান্তের সংখ্যা। জনসংখ্যার তুলনায় কোভিড-১৯ পরীক্ষার হার সবচেয়ে কম এদেশে। ফলে অজানা সংক্রমিতরা অনায়েসেই ভাইরাস ছড়াচ্ছেন। তাই দ্রুত সংক্রমণ বাড়ার পরিস্থিতি জোরালো ভাবে তৈরী হয়ে যাচ্ছে। যা পরবর্তীতে আমাদের জন্য হুমকিস্বরুপ। দেশের চিকিৎসা কাঠামোকে শক্তিশালী করার দিকে আরও জোরালো নজর দেওয়া প্রয়োজন।

করোনা চিকিৎসার যে পরিকাঠামো দেশে আছে তাও প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই সীমিত। অনেক আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে বেড মিলছে না। যেটুকু চিকিৎসা হচ্ছে সেটাও নানা কৌশলে বিপুল টাকার বিনিময়ে। এদিকে বেসরকারী হাসপাতালে অর্থাভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আক্রান্ত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারী হাসপাতালেও চিকিৎসার সুযোগ কমে যাচ্ছে। ফলে আক্রান্তদের কার্যত বিনা চিকিৎসাতেই থাকতে হচ্ছে। শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতার জোরে গৃহবন্দী থেকে যারা বাঁচার বাঁচবেন। বাকিদের অনিশ্চয়তাই দিন কাটাতে হচ্ছে। দেশে বর্তমানে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে, আক্রান্তরা যদি নিজে থেকেই ভালো হয়ে যান তাহলে ভালো, নইলে মৃত্যুকে আপন করে নিতে হবে।

লকডাউন সংক্রমণ ছড়ানো আটকায় সন্দেহ নেই। একই সঙ্গে মানুষের আয়ের পথ বন্ধ করে রুটি-রুজিও কেড়ে নেয়। তাই, পরিকল্পনাহীন দীর্ঘ লকডাউন সাধারণ মানুষের জীবনে করোনার চেয়ে ভয়ঙ্কর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

লকডাউনের মূল উদ্দেশ্য সংক্রমণের দ্রুত বিস্তার আটকিয়ে উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো গড়ে তোলা। লকডাউনের সময় দরকার ব্যাপকহারে পরীক্ষা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিন্থিত করা এবং তার সংস্পর্শে যারা এসেছে তাদের সকলকে খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা। অর্থাৎ ভাইরাসবাহী প্রতিটি মানুষকে খুঁজে মূল জনসমষ্টি থেকে আলাদা রেখেই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো। কিন্তু জোরালো পদক্ষেপের অভাবে দিন দিন দেশের মানুষ লাগামছাড়া হয়ে যাচ্ছে। সচেতনতা কমতে শুরু করেছে মানুষের মাঝে। হাট-বাজার, দোকান, শপিংমলে শারীরিক দূরত্ব না মেনে সবাই এটাকে খাটো করে দেখতে শুরু করেছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে অবস্থা আরও ভয়াবহ। আর এভাবে চলতে থাকলে সংক্রমণ দ্রুত বিস্তার করে দেশের মানুষের জন্য মারাত্নক দূর্ভোগ ডেকে আনতে পারে। দিনের পর দিন করোনার ঝুঁকি বাড়ছেই। ফলে, দেশকে মহামারীর ছোবল থেকে রক্ষা করতে সংক্রমণের বিপদকে খাটো করে দেখা কোনভাবেই উচিত নয়।

মুতাছিম বিল্লাহ রিয়াদ
শিক্ষার্থী: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.