রফিকুল আলম।।
শিশুদের মেধার বিকাশ ও ভাল ফলাফলের প্রত্যাশায় অভিভাবকগণ ছুটছেন বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দিকে, সেখানে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে। শিক্ষার্থীরা বেসরকারী নামী দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে ভর্তি হয়েছে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শিশুদের শারিরীক ও মানসিক মেধা বিকাশে বিদ্যালয়টি অবদান রাখায় এ প্রতিষ্ঠানটি সবার কাছে গ্রহণ যোগ্যতা ফিরে পেয়েছে।
কুষ্টিয়া- মেহেরপুর মহাসড়কে বাঁশবাড়িয়া বাজার সংলগ্ন দুই দশমিক ১০ একর জমির উপর এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৫ সালে। সাতটি সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ, একটি উপকরণ রুম ও একটি ডিজিটাল কম্পিউটার রুম আছে এ বিদ্যালয়টিতে । শিক্ষার্থীদের পাঠ দান করাচ্ছেন সাত জন মহিলা ও একজন পুরুষ শিক্ষক । ছাত্রছাত্রীদের জন্য আছে স্বাস্থ্য সম্মত পৃথক পৃথক টয়লেট । হাত ধোয়ার জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত বেসিন ও ওযুর জন্য রয়েছে পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে । সীমানা বেষ্টিত বিদ্যালয় আঙ্গিণা। অনিন্দ সুন্দর পরিবেশ শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয়ে আগমন ও পড়াশোনায় মনোযোগী করে তোলে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও মনিষীদের বাণী শোভা পাচ্ছে যা ছাত্রছাত্রী ও জ্ঞান পিপাসু মানুষকে মুগ্ধ করবে। এখানে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা। প্রাক- প্রাথমিক পর্যায়ের জন্য বরাদ্দ রুমটির দেয়ালে শোভা পাচ্ছে শিশুদের উপযোগী বিভিন্ন দেয়াল লিখন। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে দেশের বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধ কর্নার । এখানে একটি দ্বিতল ও একটি একতলা ভবন রয়েছে । সামনে রয়েছে বিশাল একটি খেলার মাঠ। বাচ্চাদের জন্য দোলনাসহ বেশ কয়েকটি রাইড রয়েছে খেলার জন্য ।
বিদ্যালয়ে আলাদা আইসিটি রুম আছে যেখানে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের আইসিটি জ্ঞান প্রদান করেন । জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইন ক্লাসের ভিডিও নিতে পারেন সেজন্য একটি ইউটিউব চ্যানেলের কার্যক্রম চালু করেছেন যা ইতিমধ্যে উদ্বোধন করেছেন মাননীয় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন দোদুল । প্রতিটি ক্লাস্টারের শিক্ষকদের সাথে জুম এর মাধ্যমে মিটিং করছেন ও শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি করছেন জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার। সকল শিক্ষক যাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস নিতে পারেন তার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন ।
শুধু শিক্ষা নয়, খেলাধুলাতে অনন্য অবদান রাখছে এ বিদ্যালেয়টি। ছাত্রছাত্রীরা বাংলাদেশ স্কাউট এ তাদের কাব দল পাঠানোর মাধ্যমে শিশুদের ভাল মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করছে। এ বছর জেলা মুট এ তারা অংশ গ্রহন করে জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়া লংজাম্প ও দৌঁড়ে তারা কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখে । বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকান্ড ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখায় বিদ্যালয়টি সংস্কারের জন্য এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা, রুটিন ওয়ার্ক এ চল্লিশ হাজার টাকা ও প্রাক প্রাথমিকের জন্য দশ হাজার টাকা বরাদ্দ পায় প্রতিষ্ঠানটি। বভিন্ন বরাদ্দ সঠিকভাবে যাতে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে কাজে লাগাতে পারেন সে ব্যাপারে শিক্ষা র্কর্মকর্তারা নজরদারী করছেন।

সহকারী শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় যাতে শিশুদের উপযোগী ও আকর্ষনীয় হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে চেষ্টা করেছি কাজ করার। প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রেখে পড়াশোনার খোঁজ খবর নেয়া হয়।
কয়েকজন অভিভাবক জানান, আগে সকলেই মনে করতেন বেসরকারী বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান ভাল কিন্তু এটা ঠিক যে, বাঁশবাড়িয়াতে যেভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন মেধা বিকাশে কাজ করছে তাতে কোন শিক্ষার্থী বেসরকারী বিদ্যালয়ে যাবে না। এ পরিবেশটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য শিক্ষকদের আহবান জানান তারা।
প্রধান শিক্ষক মোছাঃ নুরুন নাহার জানান, ১৯৯৫ সালে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিদ্যালয়টি একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে। আর এ কাজে সহকারী শিক্ষক মাজহারুল ইসলামসহ সকল শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীরা ও বিদ্যালয়টির বর্তমান সভাপতি সাবেক পৌর কাউন্সিলর মোঃ শামসুদ্দীন শেখকে তিনি ধন্যবাদ জানান ।
তিনি আরো জানান, সবার সহযোগিতায় এ বিদ্যালয়টির সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে রহমান ও গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলাউদ্দীন যোগদানের পর থেকেই গাংনীর প্রাথমিক শিক্ষার মান বৃদ্ধি পেয়েছে । একসময় ছিল যখন প্রধান শিক্ষকরা সারাদিন শিক্ষা অফিসে এসে বসে থাকতো । তারা ঠিকমত স্কুলে যেতেন না । এখন কেউ আর অযথা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন না। নিয়মিত মনিটরিং আর মোটিভেশনে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত ও পাঠদান করছেন।
গাংনী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলাউদ্দীন বলেন, বাঁশবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সত্যিই অসাধারন কাজ করেছে। তারা বাচ্চাদের আকর্ষন করা, তাদের মনকে কাছে টানার জন্য একটি স্কুলে যে পরিবেশ দরকার তার সবকিছুই করেছে । স্কুলের বিল্ডিং এর রং, প্রাচীর বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও মনীষিদের বাণী সব মিলিয়ে সাজানো গোছানো এক অসাধারণ ও মনোরম পরিবেশ । যাতে করে বাচ্চারা স্কুলে আসতে ও পড়তে উৎসাহিত হবে। শুধু বাঁশবাড়িয়া নয়, উপজেলার সকল স্কুল যাতে একটার সাথে আরেকটি প্রতিযোগিতা করে শিক্ষার মান বাড়াতে পারে সেদিকে সজাগ রয়েছি।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
