দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। অধিকাংশ মেডিকেল কলেজ চিকিৎসক, শিক্ষক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে পারছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানে চার থেকে পাঁচ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিক বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে।
এতদিন নিয়মিত বেতন পরিশোধ করে কয়েকটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসকদের জানিয়ে দিয়েছে, চলমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামীতে তারা বেতন-ভাতা দিতে পারবে না। হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এখনও বেতন-ভাতা নিয়মিত রেখেছে। তবে চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে তাদের পক্ষেও সেটা কঠিন হয়ে পড়বে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে চিকিৎসক, শিক্ষক, নার্সসহ জনবল ছাঁটাই করেছে। সবমিলিয়ে বেসরকারি চিকিৎসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এক কঠিন বাস্তবতার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। করোনা মহামারির এই সময়ে অধিকাংশ চিকিৎসক ও শিক্ষক চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিতে গিয়ে জানা গেছে, দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর ১২টি মেডিকেল কলেজ বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছে। ২৪টি প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে আংশিক। আর ২০টি প্রতিষ্ঠান নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে। বর্তমানে দেশে ৬৯টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছে। এর বাইরে বড়, মাঝারি ও ছোট মিলিয়ে আরও কয়েক হাজার হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। বেসরকারি ৬৯ মেডিকেল কলেজের মধ্যে ৫৬টির বিস্তারিত তথ্য সমকালের হাতে এসেছে।
অন্তত পাঁচটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মকর্তারা সমকালকে জানিয়েছেন, দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত মার্চ মাসের শেষ দিকে সবগুলো মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা কার্যক্রমও আংশিকভাবে শুরু হয়েছে। তখন থেকে অনেক প্রতিষ্ঠান বেতন-ভাতাও বন্ধ করে দিয়েছিল। কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিক বেতন দিয়ে আসছে। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা সংকটের মধ্যে পড়েছেন। বেতন-ভাতা না পাওয়ায় অনেকের তিন থেকে চার মাসের বাসা ভাড়াও বাকি পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চিকিৎসক জানান, পেশায় চিকিৎসক জানার পর বাড়ির মালিক আগ্রহ নিয়ে বাসা ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু তিন মাসের বাসা ভাড়া বাকি পড়ায় বাড়ির মালিকও তাকে আগের মতো সম্মানের চোখে দেখেন না। পরিবারের অন্যান্য ব্যয় সংকুলানও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভবিষ্যতে সংকট আরও বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাই শুরু হয়েছে। চলমান সংকট অব্যাহত থাকলে অনেকে চাকরিচ্যুত হবেন। তখন কী হবে, তা নিয়েও অনেকে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এ অবস্থায় অনেকে পেশা বদলের কথা ভাবছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মালিক সমিতির সভাপতি মবিন খান সমকালকে বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আগামী শনিবার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে ওই সভায় কোনো সিদ্ধান্ত আসবে কিনা- এমন প্রশ্নে মবিন খান বলেন, মহামারি পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে একটি অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মাসের পর মাস ধরে শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি যদি না দেয়, বকেয়া পরিশোধ না করে তাহলে একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলবে? সরকার কিংবা অন্য কোথাও থেকে প্রণোদনা পাওয়া গেলেও একটা কথা থাকত। অন্যান্য বছর এই সময়ে মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হতো। এবার এখন পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষাই হয়নি। কবে ওই পরীক্ষা হবে, কবে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এ অবস্থায় একেকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিমাসে ২ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় নির্বাহ করা কীভাবে সম্ভব? অনেক বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানও তো হিমশিম খাচ্ছে।
বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর ধরে মুনাফা করে এসেছে, সেই মুনাফা থেকে বেতন-ভাতা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে অনেকে মত দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে অনেক কথা বলতে পারেন। যারা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন, তারা বাস্তবতা সম্পর্কে জানেন। চলমান সংকটের কারণে সবাই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন। এর পরও অনেকে বেতন পরিশোধ করেছেন। সাংগঠনিকভাবে আমরা কিছু চাপিয়ে দিতে পারি না।
কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিচ্যুতির ঘটনার বিষয়ে মবিন খান বলেন, বিস্তারিত না জেনে এ নিয়ে তিনি বলতে পারবেন না। কারণ প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানেরই পৃথক আইনকানুন আছে, পরিচালনা বোর্ড আছে। কী কারণে চাকরিচ্যুতি ঘটছে, তারা সেগুলো বলতে পারবেন না। আগামী শনিবারের সভায় বিস্তারিত জেনে তিনি এ নিয়ে কথা বলতে পারবেন বলে জানান।
বেতন দিচ্ছে না ১২ প্রতিষ্ঠান : ঢাকা বিভাগের মধ্যে মার্চ থেকে বেতন বন্ধ রেখেছে শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। মার্কস মেডিকেল এপ্রিল থেকে বেতন দিচ্ছে না। এমএইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল করোনাকালে বেতন দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল, বিক্রমপুরের ভুইয়া মেডিকেল কলেজ ও সিটি মেডিকেল কলেজ পাঁচ মাস ধরে বেতন বন্ধ রেখেছে। ইউএস-বাংলা মেডিকেল কলেজও পাঁচ মাস ধরে বেতন বন্ধ রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটি আর বেতন দিতে পারবে না বলে চিকিৎসক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জানিয়ে দিয়েছে।
একই সঙ্গে তাদের অফিসে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে। নর্দান ইন্টারন্যাশনাল ও নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজে আগে থেকেই বেতন অনিয়মিত। করোনার পর প্রতিষ্ঠান দুটি বেতন-ভাতা বন্ধ রেখেছে। শরীয়তপুর মনোয়ারা শিকদার মেডিকেল কলেজ জানিয়ে দিয়েছে, উপস্থিত জনবলের বেতন দেওয়া হবে। কেউ অনুপস্থিত থাকলে বেতন পাবেন না। কেয়ার মেডিকেল কলেজে এপ্রিল ও মে মাসের বেতন বকেয়া আছে। এই দুই মাসের পঞ্চাশ শতাংশ এবং জুন থেকে নিয়মিত বেতন দেওয়ার কথা জানায় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এখনও তারা বেতন পরিশোধ করেনি। সিলেটের নর্থইস্ট মেডিকেল কলেজও বেতন দেয়নি।
আংশিক বেতন দিচ্ছে যারা : ইস্ট ওয়েস্ট পঞ্চাশ শতাংশ বেতন দিচ্ছে। কয়েকজন চিকিৎসক জানান, আগামীতে বেতন না দেওয়ার পরিকল্পনা ধরে এগোচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মুন্নু মেডিকেল কলেজ এপ্রিল ও মে মাসে পঞ্চাশ শতাংশ বেতন দিয়েছে। জুন মাসের বেতন এখনও পরিশোধ করেনি। সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ গত তিন মাস ধরে পঞ্চাশ শতাংশ বেতন দিচ্ছে। টাঙ্গাইলের কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ চিকিৎসক ও শিক্ষকদের প্রতি সপ্তাহে একদিন কর্মস্থলে যেতে বলেছে। মাস শেষে তারা চার দিনের বেতন পরিশোধ করবে বলে জানিয়ে দিয়েছে।
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ এপ্রিলে ৬০ শতাংশ বেতন দিয়েছে, মে মাসের বেতন এখনও দেয়নি। শিকদার মেডিকেল কলেজ কর্মস্থলে উপস্থিত থাকলে ৬০ শতাংশ বেতন দেবে আর অনুপস্থিত থাকলে কোনো বেতন দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। ঢাকার মগবাজারের আদ-দ্বীন ও বসুন্ধরার আদ-দ্বীন ৫০ শতাংশ বেতন দিচ্ছে। গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ৬০ শতাংশ করে বেতন দিচ্ছে। বারিন্দ মেডিকেল কলেজ পুরো বেতন দিয়েছে। তবে সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত তারা বেতন পরিশোধে ২ মাসের ব্যবধান রাখেন।
অর্থাৎ জুনের প্রথম সপ্তাহে এপ্রিলের বেতন দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা দিয়েছে যে, জুলাই থেকে তারা ৭৫ শতাংশ বেতন দেবে। নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ মে মাসে প্রি ও প্যারা ক্লিনিক্যাল শিক্ষকদের ৫০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। আগামী তিন মাস একই হারে বেতন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসকদের চাপের মুখে তাদের পুরো বেতন দিচ্ছে। টিএমএসএস মেডিকেল সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজ এপ্রিলে ৫০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। এরপর আর তারা বেতন দেয়নি। প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন চিকিৎসক, শিক্ষক জানান, কর্তৃপক্ষ এখন ক্লাস অনুযায়ী টাকা দিতে চাইছে। তারা রাজি হননি। নর্দার্ন মেডিকেল কলেজের বিষয়ে জানা যায়নি। সিলেট ওম্যান্স মেডিকেল কলেজ ৫০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। খুলনা আদ-দ্বীন, যশোর আদ-দ্বীন ৫০ শতাংশ করে, সিটি মেডিকেল ৬০ শতাংশ এবং গাজী মেডিকেল ৩০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। চট্টগ্রামের বিজিসি ট্রাস্ট আগে পুরো বেতন দিলেও মে মাস থেকে ৫০ শতাংশ করে দিচ্ছে। মেরিন সিটি মেডিকেলও মে মাসে ৫০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। তবে এই প্রতিষ্ঠানটির বেতন-ভাতা অনিয়মিত।
ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রভাষকদের পুরো বেতন পরিশোধ করেছে। তবে সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত ৮০ শতাংশ বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। ময়নামতি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ৬০ শতাংশ বেতন দিচ্ছে। আগামী মাস থেকে প্রতি ক্লাসের জন্য প্রভাষকদের ১ হাজার ৩০০ টাকা করে দেবে বলে জানিয়েছে। সহকারী অধ্যাপক ও অধ্যাপকদেরও প্রতি ক্লাস অনুযায়ী টাকা দেবে। এপ্রিল ও মে মাসে সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ৫০ শতাংশ বেতন দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি পাওয়া সাপেক্ষে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে।
শতভাগ বেতন দিচ্ছে ২০ প্রতিষ্ঠান : মাত্র ২০টি মেডিকেল কলেজ শতভাগ বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে। এগুলো হলো- এনাম মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ মেডিকেল, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল, ইব্রাহিম মেডিকেল, পপুলার মেডিকেল, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল, খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল, তাহেরুন্নেসা মেডিকেল, উত্তরা উইমেন্স মেডিকেল, শহীদ মনসুর আলী, ডেল্টা মেডিকেল, ইবনে সিনা মেডিকেল, হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ এবং উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ। তবে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, আগামীতে বেতন কমানো হতে পারে বলে তারা আভাস পাচ্ছেন। মেডিকেল কলেজের প্রভাষকদের দিয়ে তারা হাসপাতালে ডিউটি করাচ্ছে। রাজশাহী অঞ্চলের ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ, কুমিল্লা অঞ্চলের ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ, সিলেটের রাগিব রাবেয়া ও পার্ক ভিউ মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রামের মা ও শিশু মেডিকেলে শতভাগ বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে।
কারও চাকরিচ্যুতি কাম্য নয়, মত বিশেষজ্ঞদের : চলমান পরিস্থিতিতে কারও চাকরিচ্যুতির ঘটনা কাম্য নয় বলে মনে করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব। সমকালকে তিনি বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে শর্ত পূরণ না করেও শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় মেডিকেল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গুণগত মানহীন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা আছে। মানহীন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বছরের পর বছর ধরে সরকারকে বলে আসছি। কিন্তু তা না করে আরও নতুন নতুন প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেগুলো এখন সংকটে পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, বছরের পর বছর ধরে মুনাফা করে এখন তিন-চার মাসের সংকটেই বেতন বন্ধ করে দেওয়া কাম্য নয়। ছোট্ট একটি প্রতিষ্ঠান থেকে অনেকে বড় বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এর পেছনে তো চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরই অবদান রয়েছে। সুতরাং সংকটকালে তাদের বেতন বন্ধ থাকবে, চাকরিচ্যুতির ঘটনা ঘটবে- এটি হতে পারে না। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে হবে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য : সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব আলী নূর সমকালকে বলেন, এই সংকটের বিষয়গুলো নিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিছু চিন্তাভাবনা শুরুতে করা হয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে কয়েকটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সঙ্গে করোনা চিকিৎসার বিষয়ে চুক্তি করা হয়। কিন্তু দেখা গত সরকারের পক্ষ থেকে ওই ব্যয় বহন করা সম্ভব হবে না। পরে তাদের নিজস্ব উদ্যোগে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী চিকিৎসা চালাতে বলা হয়। বিদ্যমান সংকটের বিষয়গুলো নিয়ে তারা আলোচনা করতে পারে। তবে সরকারের সীমিত সম্পদের কথাও বিবেচনায় নিতে হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
