নিজস্ব প্রতিবেদক।।
রাজধানীর নীলক্ষেত সুপরিচিত পুরনো বইয়ের দোকানের জন্য। নীলক্ষেতের ফুটপাতেও অস্থায়ী এমন অনেক দোকান আছে যেখানে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, নোট-গাইড বই থেকে শুরু করে চাকরি প্রত্যাশীদের প্রস্তুতি, ক্যারিয়ার বা ভর্তি বিষয়ক, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্টদের প্রয়োজনীয় বই সুলভে পাওয়া যায়। রাজধানীর পল্টন মোড়, বাংলাবাজার ফুটপাতেও এমন বইয়ের দোকান চোখে পড়ে। এই দোকানগুলোর ক্রেতাদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী। করোনাসৃষ্ট পরিস্থিতিতে স্কুল, কলেজ বন্ধ। উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে বই বিক্রি। ফলে সংকটে পড়েছেন ফুটপাতের পুরনো বই বিক্রেতারা।
ব্যবসায়িক এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার ভাবনায় তারা দিশেহারা। দীর্ঘ লকডাউন শেষে সীমিত পরিসরে সব কিছু খুললেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি বই বেচাকেনায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নীলক্ষেতের ফুটপাতের বই বিক্রেতাদের অনেকেই বাধ্য হয়ে ব্যবসা গুটিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন। রোজগারের একমাত্র পথ বন্ধ হওয়ায় পরিবার নিয়ে তারা পড়েছেন বিপাকে। বই বিক্রেতা শরিফ হোসেন বলেন, ‘এই ছোট ব্যবসার ইনকাম দিয়েই আমার পরিবার চালাতে হয়। ভেবেছিলাম রোজার ঈদের পর মার্কেট খুললে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বেচাকেনা খুবই খারাপ। দিনে দুইশ বা তিনশ টাকার বইও অনেক সময় বিক্রি করতে পারি না। এই টাকায় নিজে খাবো কী? পরিবারই বা চালাবো কীভাবে?’ ’
করোনা শিক্ষার্থী বা বই পড়ুয়াদের যেমন বিপাকে ফেলেছে, তেমনি মানুষের জ্ঞানের খোরাক মিটিয়ে যারা নিজেদের পেটের খোরাক জোগান তাদেরকেও ফেলেছে সীমাহীন দুর্ভোগে। সময় বদল হওয়া ছাড়া ভাগ্য বদলের আর কি কোনো উপায় নেই? ফুটপাতের ক্ষুদ্র বই বিক্রেতারা খুঁজছেন এই প্রশ্নের উত্তর।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
