১৯৭১ এ খুবই ছোট ছিলাম। বড় হয়ে যখন বাবার মুখ থেকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনতাম তখন গোগ্রাসে সেই গল্প শুনতাম আর আফসোস করতাম আর কয়েকটা বছর আগে কেন আমার জন্ম হয়নি, হলে তো বাবার বা আমার ভাইদের সাথে আমিও যেতে পারতাম যুদ্ধে। আর বাবা বোঝাতেন দেশের যে কোন কাজে লাগার নামই যুদ্ধ। তাই দেশের কল্যাণ হয় এমন যে কোন কাজেই চেষ্টা করেছি এগিয়ে থাকার জন্য।
তাইতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন ডিজিটাল দেশ গড়ার ডাক দিলেন, তখন সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে আইসিটিকেই বেছে নিয়েছি শিক্ষার হাতিয়ার হিসেবে। আর আল্লাহতালা আমাকে দিয়েছেন ও দো- হাত ভরেই। পেয়েছি দেশ সেরা শিক্ষক হওয়ার মর্যাদা। ২০১৫ সালেই হয়েছি সপ্তাহের সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা, ২০১৭সালে ডিজিটাল কন্টেন্ট প্রতিযোগিতায় হয়েছি সেরা ৩৫। ২০১৭ সালেই পেয়েছি শিক্ষকতা জীবনের সবচেয়ে মুল্যবান পদক ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড -২০১৭ পুরষ্কার। কাজ করতে পেরেছি মডেল কন্টেন্ট ডেভলপার হিসেবে। দুই দুই বার পেয়েছি সেরা নেতৃত্বদানকারী হিসেবে সম্মাননা।
পেয়েছি শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষকের মর্যাদাও। এই জীবনে একজন শিক্ষক হিসেবে আর কিই বা পাওয়ার আছে। মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া জানাই করোনার এই যুদ্ধেও একজন প্রথম সারির করোনা যুদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যেদিন ( ২৫/০৩/২০২০) তারিখে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করেন সেদিনই আমি আমার আইসিটি শিক্ষক ফোরামের সহযোদ্ধাদের নিয়ে রাতে বসি এই দুঃসময়ে কি করা যায়। আমাদের সাথে যুক্ত হন আমাদের ময়মনসিংহ জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয় ও ময়মনসিংহের আইসিটি নক্ষত্র জনাব হাবিবুল ইসলাম সুমন স্যার।
আমরা যখন করনীয় নিয়ে ভাবছিলাম তখন সুমন স্যার প্রস্তাব করেন online এ শ্রেণির কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে। সাথে সাথে আমরা সিদ্ধান্ত নেই মহান স্বাধীনতা দিবসেই শুরু করবো online school কার্যক্রম। সারা শরীরে তখন একটাই ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল বঙ্গবন্ধুর সেই অমোঘ বাণী ” তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবে”। আমাদের ময়মনসিংহের আইসিটি শিক্ষক ফোরামের মিটিং অংশগ্রহণকারী সকলের মনেই হয়তোবা তখন আমার মতই বাজছিল দামামা। তাই তো বিপুল পন্ডিত স্যার সাথে সাথেই নামও প্রস্তাব করেন Mymensingh digital school
এর। অতঃপর আরও কয়েকজনের নাম প্রস্তাব শেষে আমি ও সুমন হাবিব স্যার সিদ্ধান্ত নেই আগামীকাল থেকেই আমরা online এ শ্রেণির কার্যক্রম শুরু করবো। এবং স্কুলে নাম সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয় Mymensingh online school এর। শুরু করি বাংলাদেশের প্রথম Online school এর কার্যক্রম। সুমন হাবিব স্যার রাতেই খুলেন facebook page Mymensingh online school এর নামে। প্রথম ক্লাসটি নেওয়ার দায়িত্ব পড়ে আমার উপর।
আমিও মহান রাব্বুল আলামিনের উপর তাওয়াককুল করে নির্ভীক হৃদয়ে শুরু করি। মনের মধ্যে একটিই বাণী বাজছিল জাতির পিতার অমোঘ বাণী” যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবে “। সত্যি বলতে কি তখন একবারের জন্যও মনে আসেনি, আমার ভিডিও ক্যামেরা নেই, ট্রাইপড নেই, প্রস্তুতি নেই আমি পারবো কি? তা যেন মাথায় একবারের জন্যও আসেনি। মনে শুধুই একটি ভাবনা মহান রাব্বুল আলামিন যেহেতু সুযোগ করে দিয়েছেন দেশের ক্রান্তিলগ্নে দেশের সেবা করার, তা আমাকে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।
তাই তো শুধুমাত্র হাতের লাঠিই বলবো স্মার্ট ফোনটা নিয়েই শুরু করি এই করোনা যুদ্ধ। সেই চলা চলছি, যুদ্ধ করেই যাচ্ছি। আজ যখন সুমন স্যার জিজ্ঞেস করছিলেন আপনার কয়টা ক্লাস হয়েছে আমি সত্যি অবাক হয়েছি, এটা আবার কেমন কথা, ক্লাস করে যাচ্ছি তো করে যাচ্ছি কয়টা ক্লাস করেছি এই প্রশ্ন কেন? যুদ্ধে কি কতজন শত্রু পক্ষের সেন্য মারলাম সেটার হিসেব রাখতে হয় নাকি?
Mymensingh online school এর পাশাপাশি শুরু করলাম আরেক যুদ্ধ Mymensingh Zilla school এর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধে আমাদের মাননীয় প্রধান শিক্ষক মহোদয় যখন আমাকে জানালেন জিলা স্কুলের নিজস্ব Facebook page এর মাধ্যমে শ্রেণির কার্যক্রম শুরু করার জন্য, তখনও চিন্তা করিনি পারবে কি- না। শুধু মনে করেছি দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যদি নিজেকে কাজে লাগাতে পারি তবেই ধন্য হবো। নিজেকে স্বার্থক মনে করবো।
তবে উভয় ক্ষেত্রেই পেয়েছি আমার সহযোদ্ধাদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর সহযোগিতার মানসিকতা। তাদের সহযোগিতাই আমি পেরেছি নিজেকে একজন যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলতে।
আর যুদ্ধে আমাদের ময়মনসিংহের মাননীয় জেলা প্রশাসক আমাদের দিয়ে গেছেন সঠিক নেতৃত্ব সেই সাথে হাবিবুল ইসলাম সুমন স্যার দিয়ে যাচ্ছেন সঠিক পথনির্দেশনা। আর ময়মনসিংহের আমরা আইসিটি পাগল যোদ্ধা।
যাদের নাম না নিলে আমি নিজেকে অপরাধী ভাববো তারা হলো মুহাম্মদ গোলাম হক, বিপুল পন্ডিত, মোঃ রুকন উদ্দিন, আমেনা বেগম চম্পা, মাহমুদা খানম মলি, রাব্বি স্যার, মনিরা তরফদার, নুরুজ্জামান, আনোয়ার কাদের, মোবারক মোর্শেদ মিল্কী, রেজাউল করিম, সুব্রত সাহা, আলতাব হোসেন স্যার, তাছাদ্দুক হোসেন স্যার, আশরাফুল হক ভুঁইয়া, সুলতানা নাসরিন, শাহানাজ পারভীন সহ আরও অনেকে। যাদের নাম নেইনি তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি কারণ সবার নাম লিখতে গেলে লেখার কলেবর অনেক বড় হয়ে যাবে।
তবে যাদের কাছে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ তারা হলেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যারা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের অনলাইন স্কুল কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমার লেখায় কারো মনে কোন কষ্ট দিয়ে থাকলে বা কষ্টের কারণ হলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।
ক্ষমাপ্রার্থী
মোঃ খুরশীদ আলম তালুকদার
সহকারী শিক্ষক
ময়মনসিংহ জিলা স্কুল
ও
সাধারণ সম্পাদক
আইসিটি শিক্ষক ফোরাম
ময়মনসিংহ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
