এবারের মতো ফুরিয়ে গেল রহমতের দশক। আশা করি সবাই আমরা যে যার মতো কামাই করে নিয়েছি চোখের জলের বিনিময়ে। আজ রহমতের শেষদিন। পবিত্র রমজানুল মোবারককে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দশ দিন রহমতের, দ্বিতীয় দশক মাগফিরাতের আর তৃতীয় দশক নাজাতের। মুমিন বান্দা আল্লাহর রহমতে সিক্ত হয়ে মাগফিরাত অর্জন করে, জাহান্নাম থেকে মুক্তির সনদ লাভ করে রমজানের বিশেষ ইবাদতে। আশা করি আকাক্সক্ষার এ রহমত আমরা লাভ করেছি।
হজরত উম্মে সালমা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম বছর রমজানের প্রথম দশকে ইতেকাফ করেন, অতঃপর মধ্যম দশকে এরপর শেষ দশকেও ইতেকাফ করেন। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৩ : ১৭৬ ]
নবীজী (সা.) প্রথম দশকেও নফল ইতেকাফ করেছেন। এটা একান্তই আল্লাহর রহমত পাওয়ার আশায়। মুমিন বান্দা মসজিদমুখী জীবন যদি গঠন করতে পারে তাহলেই রহমত লাভে ধন্য হতে পারে।
নবীজী (সা.) চাইতেন, কোনো মুমিন যেন রমজানের আমল থেকে বঞ্চিত না হন। নিজেকে অবশ্যই যেন ক্ষমা করিয়ে নিতে পারে। এ সুযোগ থেকে যে বান্দা বঞ্চিত হবে তাকে তিরস্কারও করা হয়েছে। হজরত কাব ইবন উজরা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা মিম্বারের নিকটবর্তী হও। আমরা হাজির হলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের প্রথম সিঁড়িতে পা মোবারক রাখলেন এবং বললেন, আমিন। এরপর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখার সময়ও আমিন বললেন। খুতবা শেষে মিম্বার থেকে নেমে এলে আমরা জানতে চাইলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আজ মিম্বারে উঠার সময় যা শুনলাম, আগে কখনও তা শুনিনি।
নবীজী বললেন, জিবরাইল (আ.) এসেছিলেন। আমি যখন প্রথম সিঁড়িতে পা রাখি তখন জিবরাইল (আ.) বললেন, ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি, যে রমজান পেল অথচ তার মাগফিরাত হল না। আমি বললাম, আমিন। দ্বিতীয় সিঁড়িতে পা রাখার সময় জিবরাইল (আ.) বললেন, ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি যার সামনে আপনার নাম নেয়া সত্ত্বেও সে আপনার ওপর দুরূদ পাঠ করল না। আমি বললাম, আমিন। এরপর তৃতীয় সিঁড়িতে পা রাখতেই জিবরাইল (আ.) বললেন, ধ্বংস হোক ওই ব্যক্তি যার সামনে তার পিতা-মাতা বা তাদের কেউ বার্ধক্যে পৌঁছেছে অথচ তারা তাকে জান্নাতে পৌঁছাতে পারল না (খিদমত করে জান্নাত হাসিল করতে পারল না)। এর জবাবে আমি বললাম আমিন। [মুসতাদরাকে হাকেম]
যেন চোখের পলকেই শেষ হয়ে গেল রহমতের দিনগুলো। আমরা কী নিজেকে রহমতস্নাত করতে পেরেছি? রমজানের এ পবিত্র সময়ে নিজেকে পবিত্র করার সুযোগ থেকে আমরা কেউই বঞ্চিত হতে চাই না। পরের দশকের মাগফিরাত আর নাজাতের সময়গুলো অতি গুরুত্ব দিয়ে নিজেকে ইবাদত এবং আমলে ডুবিয়ে রাখতে হবে। আল্লাহতায়ালা আমাদের রহমতের বারিধারায় সিক্ত করুন।
লেখক: মাওলানা মো, নূরুজ্জামান, সহকারী শিক্ষক, খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
