সারা বাংলাদেশে প্রায় ৪০ হাজার কিন্ডারগার্টেন এবং শিক্ষার্থী প্রায় ১ কোটি। লক্ষাধিক শিক্ষক/শিক্ষিকা দ্বারা পাঠদান পরিচালিত হয়ে আসছে। রাষ্ট্রের শিক্ষা কার্যক্রমে এসব প্রতিষ্ঠানও যে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে তা অস্বিকার করার কোন সুযোগ নেই। প্রতিষ্ঠানগুলো বেশিরভাগ ভবন ভাড়া নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।ভবন ভাড়া,শিক্ষকদের বেতন,বিদ্যুৎ, জেনারেটর বিল সহ সকল চাহিদা, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া বেতন থেকে পরিশোধ করে থাকে।
হঠাৎ করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সারা বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমাদের কেজি স্কুল গুলোও সেই সাথে তড়িগড়ি করে বন্ধ করে দেওয়া হয়।যার ফলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওনা আদায়,শিক্ষকদের বেতন প্রদান,ভাড়া প্রদান ব্যহত হয়।পরবর্তিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আবার লকডাউন ও বন্ধ কয়েক ধাপে বর্ধিত করা হয়।
কেজি স্কুলের একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ ৪/৫ হাজার টাকা বেতন পায়।কোন কোন ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা আরও কম।তারা তাদের টিউশনি,প্রাইভেট কোচিং করে কোন মতে জীবন চালায়।এমতাবস্থায় যদি কোন মাসের বেতনই না পায় তাহলে সমস্যাটা কতটা প্রকট হবে তা সহজেই অনুমেয়।অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় একজন শিক্ষকের এই স্বল্প পরিমাণ আয়ের উপর কয়েকজন নির্ভরশীল। অন্যদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের টিউশন ফি ছাড়া মাসে মাসে ভবন ভাড়া পরিশোধ করা খুবই নাজেহাল ব্যপার।এমন পরিস্থিতিতে একজন শিক্ষক কতটা কষ্টে দুঃখে দিনাতিপাত করছে তা সহজেই অনুমেয়।
লকডাউন পরিস্থিতির জন্য অনেকে নিজ জায়গায় আটকে আছে,অনেকে কোনমতে দেশের বাড়ি খেয়ে না খেয়ে সময় পার করছে।বিভিন্ন জায়গায় সরকারী ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে।একজন শিক্ষক হয়ে কিভাবে ত্রাণই বা গ্রহন করবে! না করেই বা কিভাবে চলবে! অনেকটা এরকম যে, বুক ফাঁটে তো মুখ ফোটে না!
স্কুলের পরিচালকরা যেমন বিপদে তেমনি শিক্ষকরাও। বিপদের এই সংকট মূহুর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এমন অনেক সেক্টরে প্রনোদনা ঘোষণা করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।তাঁর দক্ষ পরিচালনায় জাতি দেখছে আলোর মুখ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়তে পারে এ ছুটি। এই কয়েক মাস প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকলে পরিচালক ও শিক্ষকদের কি অবস্থা হবে তা বলা মুশকিল।
এ হেন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের পাশে না দাড়ালে কিংবা রাষ্ট্রীয়ভাবে সহযোগীতার হাত প্রসারিত না করলে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে নিঃসন্দেহে। আর শিক্ষকদের অবস্থা কি হবে তা বর্ণনা করার ভাষা জানা নাই। আমরা আশাবাদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই দেশের সকল সেক্টর নিজে দেখবাল করেন,সকল সমস্যার সমাধান করেন।আমাদের এই সমস্যার সমাধানও তিনি করবেন। লক্ষাধিক শিক্ষকের প্রাণের দাবী ও আবেদনের যথাযথ মূল্যায়ন হবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
