নিউজ ডেস্ক ।।
দেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাধারণ ছুটি ঘোষণাসহ দেয়া হয়েছে বেশ কিছু নির্দেশনা। আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সরকারি ছুটি থাকবে। এ সময় সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। তবে খোলা থাকবে হাসপাতাল এবং জরুরি সেবাসমূহ।
এছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধের কার্যক্রমে অংশ নিতে আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে সারা দেশে নামছে সেনাবাহিনী। তারা সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা পর্যালোচনায় বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেবে। এই সশস্ত্র বাহিনী মাঠে থাকবে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায়।
সোমবার (২৩ মার্চ) সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।
তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল এবং জরুরি সেবা চালু থাকবে। জনসাধারণকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে, তারা যেন এ সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হয়।
জনগণের স্বার্থে মন্ত্রিপরিষদ, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, স্বাস্থ্য এবং রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেয়ার জন্য নামবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে তারা জেলা ও বিভাগীয় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে।
সেনাবাহিনী বিশেষ করে বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের কেউ নির্ধারিত কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক সময় পালনে ত্রুটি বা অবহেলা করছে কিনা, তা পর্যালোচনা করবে।
জনসাধারণকে যথাসম্ভব গণপরিবহন পরিহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যারা ব্যবহার করবেন তাদের অবশ্যই করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। গাড়িচালকদের গ্লাভস এবং মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ছুটির সময় বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং ব্যবস্থা সীমিতভাবে চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। পরে ২ ঘন্টার জন্য ব্যাংক খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর আগে স্কুল ছুটি ঘোষণার পর দেখা গেছে অনেকেই দেশের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে গেছেন। সাধারণ ছুটি মানে সরাসরি আইসোলেশন না হলেও নিজেকে পৃথক রেখে অন্যকে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা।
দেশে করোনা প্রতিরোধে জনসাধারণকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ক্রয় ও চিকিৎসা গ্রহণ ইত্যাদি) কোনোভাবেই ঘরের বাইরে না আসার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
