নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেশনজট নিরসন, পাঠ্যবই পরিমার্জন এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে শিক্ষাজীবনে গতি আনাই এ পরিকল্পনার লক্ষ্য। ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এসব উদ্যোগ শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি গুণগত রূপান্তরও আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিসেম্বরেই শেষ হবে সব পরীক্ষা : শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিওলন জানিয়েছেন, এখন থেকে ডিসেম্বর মাসকে একাডেমিক বছরের শেষ মাস হিসাবে ধরা হবে। এ সময়ের মধ্যেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করে দ্রুত ফল প্রকাশ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা বিলম্ব ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে।
মন্ত্রীর ভাষায়, ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে পারলে সিলেবাস, কারিকুলাম ও বোর্ড কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন হবে। এতে শিক্ষার্থীরা ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে সেশনজট ছাড়াই উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করতে পারবে। ২০২৭ সালের মধ্যেই এ সময়সূচি কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন : প্রথম থেকে নবম শ্রেণির পাঠ্যবই পরিমার্জনে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কাজে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট।
নতুন পরিকল্পনায় ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি বই চালুর প্রস্তাব রয়েছে, যা আনন্দমুখর শিক্ষাকে গুরুত্ব দেবে। পাশাপাশি চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিবিষয়ক বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল আসক্তি থেকে বেরিয়ে মাঠমুখী হতে পারে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার ওপর জোর : সময়ের চাহিদা বিবেচনায় আইসিটি বই নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা এবং হার্ডওয়্যার সম্পর্কিত বিষয় যুক্ত করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারে।
ইতিহাসে বস্তুনিষ্ঠতা আনার উদ্যোগ : নতুন পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতিহাসের অস্পষ্টতা দূর করে প্রত্যেকের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি বাংলা, বিজ্ঞান ও পৌরনীতি বইয়েও আধুনিক জীবনের প্রতিফলন ঘটানো হবে।
শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মতামত : সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষাবিদ, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সৃজনশীলতা ও ব্যবহারিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে পারলে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। – আমাদের সময়
শিক্ষাবার্তা /এ/ ০৩/০৫/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল