এইমাত্র পাওয়া
A small shopping basket filled with vials labeled "COVID-19 - Coronavirus Vaccine" and medical sryinges are placed on a Pfizer logo in this illustration taken November 29, 2020. Picture taken November 29, 2020. REUTERS/Dado Ruvic/Ilustration

সব নমুনা পরীক্ষা ঢাকায়, বাইরে চিকিৎসা বিলম্বিত

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

হামের নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকার বাইরের জেলাগুলো, এমনকি বিভাগীয় শহরেও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে। তা ছাড়া ৯ মাসের কম বয়সী শিশু হামে আক্রান্ত হওয়া উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই শিশুদের চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে মুশকিলে পড়ছেন চিকিৎসকেরা।

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিলেটে হাম রোগের নমুনা পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে রোগ নির্ণয়ের জন্য পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে ঢাকার ওপর। সে ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে দেরি হওয়ায় আগেভাগে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা শুরু করা যায় না।

সিলেটের সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন বলেন, হামের নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে রোগীর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়। চূড়ান্ত ফল পেতে অন্তত সাত দিন সময় লাগে। এ সময় রোগীদের আইসোলেশনে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।

এদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬ এবং এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন ভর্তি রয়েছে। সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম এ তথ্য জানিয়েছেন।

অন্যদিকে যশোরে হামে আক্রান্ত শিশুদের অধিকাংশেরই বয়স ৯ মাসের কম। নিয়মানুযায়ী ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের হামে টিকা দেওয়ার সুযোগ নেই। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়া উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, সম্প্রতি জেলার ৮৯টি হামের স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২১টি স্যাম্পল পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ২১ জনের মধ্যে ১৭ জনেরই বয়স ৯ মাসের কম। বাকিদের বয়স এক বছরের বেশি।

গত দুই মাসে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে মার্চ মাসে দশ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক শিশুর বাবা মণিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের উজ্জ্বল দাস জানান, তাঁর আট মাস বয়সী মেয়ের জ্বর ও শরীরে র‌্যাশ দেখা দিলে প্রথমে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে হাম সন্দেহে শিশু হাসপাতালে পাঠানো হলে তিনি মেয়েকে ভর্তি করেন।

যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল বলেন, শিশুদের হামের টিকা ১০ মাস ও ১৫ মাসে দেওয়া হয়। ফলে অনেক শিশু ১০ মাস বয়সের আগে, অর্থাৎ টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে।

এদিকে কুমিল্লায় হাম আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে অন্তত ১৫ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ জানান, ১৮ থেকে ৩০ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত এই হাসপাতালে ২৫ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে আটজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে এবং দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ১৫ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মৌলভীবাজারে হামের লক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ২২ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ৯ জনের পজিটিভ পাওয়া গেছে।

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. আহমেদ ফয়সল জামান জানান, হাসপাতালে তিনজন হামের রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে দুই শিশু ও এক পুরুষ রয়েছে।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, জেলার বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতালে সন্দেহভাজন ১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ৬ জনের পজিটিভ আসে। প্রতিদিন হামের লক্ষ্মণ নিয়ে অনেকে আসছে।

চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫ শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম গতকাল বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগর এবং ১৫টি উপজেলা থেকে এখন পর্যন্ত আমরা ৪০ জনের নমুনা নিয়ে ঢাকায় পাঠিয়েছিলাম। তাদের মধ্যে ৩৮ শিশুর শরীরে হাম নেগেটিভ এবং দুজনের শিশুর পজিটিভ এসেছে।’

হাম পজিটিভ দুই শিশুর মধ্যে একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যজন আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত কারোর মৃত্যু হয়নি বলে যোগ করেন সিভিল সার্জন।

নওগাঁয় গতকাল পর্যন্ত হাম আক্রান্ত আট রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকায় বসবাসকারী এই জেলার এক শিশু সেখানে (ঢাকা) মারা গেছে। গতকাল সকালে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, রোগীতে ঠাসা শিশু বিভাগটি। শয্যাসংকটে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেক রোগীকে। ২০ ওয়ার্ডের বিপরীতে সর্দি, জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে ৭০ রোগী।

স্বজনদের অভিযোগ, ওয়ার্ডের একই বিছানায় দুই থেকে তিন রোগীর চিকিৎসায় বাড়ছে আক্রান্তের ঝুঁকি। এ অবস্থায় সঠিক চিকিৎসা না পাওয়া এবং রোগটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্বজনেরা। এদিকে সেবা দিতে হিমশিম অবস্থা চিকিৎসক-নার্সদের।

নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আবু জার গাফফার বলেন, ‘জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। বর্তমানে হাসপাতালে একজন রোগী সন্দেহভাজন হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর জন্য আলাদাভাবে একটি কেবিনকে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বাড়ানো হবে।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন আইসোলেশন ওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৭ মার্চ থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৫ শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৬৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মুহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, যেহেতু রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে, শিশু ওয়ার্ডে স্থান সঙ্কুলান হচ্ছে না। সে জন্য হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ম তলার পশ্চিম পাশে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহমেদ বলেন, হামে আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১৩ উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্টকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁরা সার্বক্ষণিক হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকবেন।আজকের পত্রিকা

শিক্ষাবার্তা /এ/৩১/০৩/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.