নিজস্ব প্রতিবেদক।।
সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, ‘বিশ্বখাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় সরকার শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ শুরু করেছে। এই উদ্যোগ শিশুদের মেধাবিকাশ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়তা করবে।’
সোমবার (৩০ মার্চ) যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’র উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তারা।
এই কর্মসূচির করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। কর্মসূচির আওতায় উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’ কেশবপুর উপজেলার ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯ হাজার ৩০১ জন শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবার (টিফিন) সরবরাহ করবে। এখন থেকে শিক্ষার্থীরা টিফিনে পাবে পুষ্টিকর বনরুটি, কলা বা স্থানীয় মৌসুমি ফল, সিদ্ধ ডিম, ফর্টিফাইড বিস্কুট এবং ইউএইচটি দুধ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা (বাবু), উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার, সুশীলনের উপপরিচালক ও প্রকল্প ফোকাল শাহিনা পারভীন, বেগমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শংকরী চক্রবর্তী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শিশুদের বিদ্যালয়মূখী করতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন। তিনি বলেন, ‘দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুরা ক্ষুধা ও অপুষ্টির কারণে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত হয়ে পড়ে বা এক পর্যায়ে পড়াশোনা থেকে ঝরে যায়। এই প্রবণতা বন্ধের পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহায়তায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যা শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়তা করবে।
স্বাগত বক্তব্যে সুশীলনের উপপরিচালক শাহিনা পারভীন বলেন, ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি সরকারের একটি ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের অপুষ্টি দূর, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং ঝরে পড়া রোধ করতে স্কুলগুলোতে পুষ্টিকর বনরুটি, কলা ও সেদ্ধ ডিম সরবরাহ করবে সুশীলন। এ ছাড়া ফর্টিফাইড বিস্কুট এবং ইউএইচটি দুধ বিতরণ করা হবে। এতে প্রয়োজনীয় শক্তি, প্রোটিন ও ভিটামিনের জোগান পাবে শিক্ষার্থীরা, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে।’ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘টিফিনে শিক্ষার্থীদের মাঝে পুষ্টিকর খাবার বিতরণ কার্যক্রম শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করবে এবং নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের ঝরে পড়ার হার কমবে এবং একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে উঠবে।’
শিক্ষাবার্তা /এ/৩০/০৩/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
