এইমাত্র পাওয়া

ঈদ উৎসবের মধ্যেই গত ১৮ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ২৩ জনের

নিউজ ডেস্ক।। 

ঈদ উৎসবের মধ্যেই দেশজুড়ে একের পর এক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় ১৮ ঘণ্টায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল থেকে রোববার (২২ মার্চ) সকাল পর্যন্ত কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, ফেনী, নাটোর, নড়াইল ও ঝিনাইদহে পৃথক দুর্ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে ২১ মার্চ কুমিল্লার একটি রেলক্রসিংয়ে। দিবাগত রাত ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় চট্টগ্রামগামী ট্রেনের সঙ্গে ‘মামুন পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন। বাসটি রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে চালকের অসতর্কতাকেই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

রোববার (২২ মার্চ) সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুরে দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যান খাদে পড়ে নারী ও শিশুসহ ৪ জন নিহত হন। ঢাকাগামী আসবাবপত্রবোঝাই পিকআপটি অন্য একটি যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে গিয়ে এই দুর্ঘটনার শিকার হয়। শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ দীর্ঘ চেষ্টার পর পিকআপটি উদ্ধার করে ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ বের করে।

এর আগে, রোববার ভোর পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে প্রাণ হারান আরও ৩ জন।মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম জানান, ব্রিজের সংস্কার কাজ চলার কারণে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে স্পিড ব্রেকার পার হচ্ছিল। এ সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে অ্যাম্বুলেন্সটিকে ধাক্কা দেয়।

এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা ও সড়কে জটলা তৈরি হলে বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহন নামে আরেকটি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ও একটি মোটরসাইকেলের মারাত্মক সংঘর্ষ হয়। এতে একজন মোটরসাইকেল আরোহী, একটি বাসের সুপারভাইজার ও একজন যাত্রী প্রাণ হারান।

অন্যদিকে, নাটোরের নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় বিয়ের আগের দিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান জুলফিকার নামের এক প্রকৌশলী। বোন ও দুলাভাইকে আনতে পাবনার দাশুড়িয়া থেকে নাটোরের বনপাড়ায় যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তার গাড়ি একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এছাড়া নড়াইল, ঝিনাইদহ ও নাটোরের পৃথক দুর্ঘটনায় আরও ৩ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ঈদের দিন ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এক যুবক, আলমসাধু থেকে পড়ে মারা যান এক কিশোর এবং ট্রাকের বাম্পার থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণ যায় এক হেলপারের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে অতিরিক্ত যান চলাচল, বেপরোয়া গতি এবং অসতর্কতাই এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। আনন্দের সময়ে এমন প্রাণহানিতে পরিবারগুলোর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.