এইমাত্র পাওয়া

পে-স্কেল বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাস পেরোনোর আগেই শুরু হয় ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ। এ যুদ্ধের প্রভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতি প্রায় নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে জ্বালানির সংকট। এ ছাড়া সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে অর্থসংকটে রয়েছে সরকার। এজন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ব্যাপারে ধীরে চলো নীতি বেছে নিয়েছে সরকার। এ নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে। অবশ্য সেই প্রস্তাব রিভিউ করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার কথা রয়েছে। এর পরে রয়েছে বাজেট অধিবেশন। ইতোমধ্যে সংসদের কার্যপ্রণালি প্রণয়নের প্রস্তুতি চলছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু বলেছেন তাই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন এই বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হতে পারে। তবে এখনই সব বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, এজন্য কিছুটা সময় নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এদিকে গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পিকেএসএফ ও পে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। যদিও শিডিউলে দেওয়া তথ্য বলছে, তিনি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান হিসেবে। তবে বৈঠকে পে কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১৮ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘পে-স্কেলের সুপারিশ আমাদের দেখতে হবে। না দেখে এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেখতে হবে মোট অ্যামাউন্ট কত। এটা কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব সেগুলো দেখতে হবে। বর্তমান আর্থিক অবস্থায় যেখানে বাংলাদেশের ট্যাক্স রেভিনিউ, ট্যাক্স জিডিপি রেশিও সবচেয়ে খারাপ, এমনকি দক্ষিণ এশিয়াতে সবচেয়ে খারাপ। এসব দেখে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কতটুকু কখন কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়। সেটা আমরা পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখব।’

 

সূত্র জানান, আসছে নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭-এ প্রস্তাবিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের কথা বললেও বাস্তবে সেটা কতখানি সম্ভব হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কেননা সরকারের মধ্যে অর্থসংকট আরও বেড়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যসংকট। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে। তবে পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবিদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ুক এমন পরিস্থিতি তৈরিও করতে চায় না সরকার। ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত পে-স্কেল রিভিউও করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ সূত্র জানান, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে দেশে আর্থিক সংকট আরও বেড়েছে। এ যুদ্ধ কতটা দীর্ঘায়িত হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। যুদ্ধ যতটা দীর্ঘায়িত হবে সংকট ততই বাড়বে। এমনিতেই অর্থবছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকার ওপরে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।

গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্য নিয়ে বেতন কমিশন গঠিত হয়।  চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দেয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.