নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচল ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় গতকাল বুধবারও বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়, সঙ্গে ভোগান্তিতে। শুধু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল হয়েছে ১৭৩টি। গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহম্মাদ কাউছার মাহমুদ। একই সময়ে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে বাতিল য়েছে ৪৬টি ফ্লাইট। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার টেবিলে না বসলে সংকট দীর্ঘ হতে পারে। এতে পুরো এভিয়েশন বাজার চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। কয়েক দিনের ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতের কারণে উজোজাহাজ প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দর দ্রুতগতিতে কমছে। আবারও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফ্লাইট চালুর পর যাত্রীদের চড়া দামে টিকিট কিনতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এসে যাত্রীরা বিমানবন্দরগুলোতে ভিড় করছেন। বাংলাদেশি এসব যাত্রীর দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। অন্যদিকে এখন ফ্লাইট বাতিল হলে নতুন টিকিট করতে হবে কিনা বা ফ্লাইটের সেই অর্থ কোথা থেকে আসবে, এসব বিষয়ে চিন্তায় যাত্রীরা।
গতকাল বিমানের একটি ফ্লাইটে দোহা যাওয়ার জন্য শাহজালাল বিমানবন্দরে আসেন সামিউল ইসলাম। বিকেল ৩টায় ছিল তাঁর ফ্লাইট। কিন্তু বিমানবন্দরে এসে জানতে পারেন ফ্লাইট বাতিল। তিনি বলেন, কাতারে কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশে কুমিল্লা থেকে ভোরে বিমানবন্দরে পৌঁছেছি। দুপুর ১টার দিকে বিমানের লোকজন জানান, দোহাগামী ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
গত সোমবার এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং যাদের টিকিট স্থগিত হয়েছে, তারা পরবর্তী সময়ে যাতে নিয়ম অনুযায়ী সুবিধাগুলো পায়, তা নিশ্চিতে আলোচনা হয়েছে। সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে, বাংলাদেশিরা যাতে সুরক্ষিত থাকেন। যেসব যাত্রী আটকে পড়েছেন, তারা যাতে সুরক্ষিত থাকেন, তাদের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের টিকিট সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা বিনামূল্যে পাবেন বলে জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিমানের আবুধাবি, শারজাহ, দুবাই, দোহা, কুয়েত ও দাম্মাম রুটে সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রুটগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত থাকবে। এসব রুট ছাড়া বিমানের মধ্যপ্রাচ্যগামী অন্যান্য রুটের (জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, মাস্কাট) ফ্লাইটগুলো যথারীতি পরিচালিত হচ্ছে।
সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়া এই রুটগুলোর যেসব যাত্রী স্থগিত সময়ে যাত্রার জন্য টিকিট সংগ্রহ করেছেন, তারা অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই টিকিট রিফান্ড অথবা বিনামূল্যে যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন। যাত্রীরা দেশে ও বিদেশে বিমানের যে কোনো সেলস সেন্টার অথবা ক্রয়কৃত টিকিট প্রদানকারী ট্রাভেল এজেন্সি থেকে নিতে পারবেন উপযুক্ত সেবাগুলো। তাছাড়া বিমানের স্থগিত ফ্লাইট নিয়ে যে কোনো তথ্য জানতে যাত্রীরা কল সেন্টার: ১৩৬৩৬ (অভ্যন্তরীণ) বা +৮৮০৯৬১০৯ ১৩৬৩৬ (আন্তর্জাতিক) এ যোগাযোগ করতে পারবেন। এরই মধ্যে কাতার সরকার ঘোষণা দিয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা সব ধরনের ভিসার মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়ানো হবে।
শিক্ষাবার্তা /এ/০৫ /০৩/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
