এইমাত্র পাওয়া

সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন বেরোবির রেজিস্ট্রার

আবুল হোসেন।। 

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডক্টর হারুন অর রশিদের নিয়োগ বাতিলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডক্টর শওকত আলী নিজ পদ রক্ষার জন্য এবং নিজেকে বাঁচাতে কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে অব্যাহতি দিয়েছেন।

শিক্ষক থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেকেরই চাকরিতো দুরের কথা, বেরোবিতে আবেদন করার যোগ্যতা যাদের নেই বিভিন্ন কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তারা চাকরি করছেন। এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আমাকে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি ও চাপের মুখে থাকতে হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজনের চাকরি বাতিল হয়েছে এবং আরও অনেকে ঝুঁকিতে রয়েছেন।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কেউ মামলা করতে সাহস না পেলেও আমি বাদী হয়ে হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়ে মামলা করেছি। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে সততার সঙ্গে কাজ করায় পরিকল্পিতভাবে আমাকে অপসারণ করা হয়েছে।

বুধবার নগরীর ওয়েস্টার্ন কুজিন রেস্টুরেন্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ডক্টর হারুন অর রশিদ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ছুটির পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরদিনই আমাকে ‘জামায়াতপন্থি’ আখ্যা দিয়ে নিয়োগ বাতিল করা হয়। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রেজিস্ট্রার হারুন অর রশিদ আরও বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুয়া নিয়োগ, জাল সনদে চাকরি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করলে আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। যার সাথে উপাচার্য নিজেও রয়েছেন।

তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে সাংবাদিক সম্মেলন থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরছি, শহীদ আবু সাঈদ ও তার সহপাঠী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার মামলায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা,মামলা বাণিজ্য না করে যথাযথভাবে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা, শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন হয়রানি, জালিয়াতি করে চাকরি গ্রহণসহ সকল তদন্ত রিপোর্টের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়ন করা, চলমান তদন্তগুলির প্রতিবেদন অবিলম্বে জমা দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, পুনঃ তদন্ত এবং তদন্তের নামে কাল ক্ষেপণ বন্ধ করা, উপাচার্যগণ ও তাদের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দুর্নীতি, অনিয়ম ও নিয়োগ এবং পদোন্নতির বাণিজ্য বন্ধে উচ্চ পর্যায়ের জাতীয় তদন্ত কমিটি/ কমিশন গঠন করে সুষ্ঠু পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত সকল নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ রাখা, ক্যাম্পাসে মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অবিলম্বে ব্রাকসু নির্বাচনের আয়োজন করা।

এ সময় তিনি শিক্ষক সমিতিসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমিতি ও ইউনিয়নসমূহ চালু করে দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকে সোচ্চার ভুমিকা পালনের আহ্বান জানান। #


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.