নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের জন্য শপথ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তাঁদের বাসস্থান সংসদ সদস্য ভবনে (এমপি হোস্টেল) তাঁদের বরণের প্রস্তুতি চলছে। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর নিদারুণ অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকা এই ভবনগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর সরকারি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদ সদস্যদের নামে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সূত্র মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশনকক্ষ, শপথকক্ষ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সংসদ উপনেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও হুইপদের কক্ষসহ ৯ তলা ভবনের বেশির ভাগ কক্ষ তছনছ হয়।
সংসদ এলাকায় স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের ভিআইপি বাসভবনসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বাড়িগুলোতেও ভাঙচুর-লুটপাট হয়। ভাঙচুর চালানো হয় এমপি হোস্টেলেও। এর পর থেকে একসময় সংসদ সদস্য ও তাঁদের পরিবার এবং দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের কোলাহলে মুখর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ও নাখালপাড়ার ভবনগুলো অবহেলায় পড়ে ছিল। গত বছরের শেষ দিকে ভবনগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বরণ করার জন্য সংসদ সচিবালয় প্রস্তুত বলে জানান জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) এমদাদুল হক। তিনি বলেন, ‘শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে সংসদ সচিবালয়। একই সঙ্গে এমপিদের আবাসস্থল এমপি হোস্টেল প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে বসবাস উপযোগী করা হয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর ভাঙচুর হওয়া ভবনের সংস্কারকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।
শপথ গ্রহণের এক মাসের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। তাই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর বাসা বরাদ্দের কাজ শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, এরই মধ্যে সংসদ ভবনের পাশাপাশি এমপি হোস্টেলের ভবনগুলোর সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। তবে তহবিলসংকটসহ নানা কারণে সংস্কারকাজগুলো যথাযথভাবে করা সম্ভব হয়নি। ভাঙচুরের পর সংসদ ভবন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ক্ষয়ক্ষতি ও সংস্কারের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছিল জাতীয় সংসদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত গণপূর্ত অধিদপ্তর।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে সমপরিমাণ অর্থে নির্মাণ ও সংস্কারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়। কিন্তু ওই কাজে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এরপর ছিল তদারকির অভাব, যে কারণে শেষ মুহূর্তে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। আপাতত ভবনগুলো এমপিদের বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শেরেবাংলানগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজ বলেন, কাজটি যেভাবে করা হয়েছে তাতে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন এমপি হোস্টেলে সংসদ সদস্য অফিসে এসি বসানো যাচ্ছে না। জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন ছাড়াও ১২টি ভিআইপি বাংলোসহ ৭৬টি উচ্চমান বাসভবন রয়েছে। এ ছাড়া এমপি হোস্টেলের সংস্কারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বেশ কিছু সংস্কারকাজ সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর করা হবে।
১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ন্যাম সম্মেলনের অতিথিদের থাকার জন্য রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ ও নাখালপাড়ায় তৈরি করা ভবনগুলো ২০০৩ সালে সংসদ সদস্যদের বসবাসের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর পর থেকে মানিক মিয়া এভিনিউর ন্যাম ভবনের ২৬৪টি ফ্ল্যাটে নামমাত্র ভাড়ায় সংসদ সদস্যরা বসবাস করে আসছেন। ন্যাম ভবনের ১, ২ ও ৩ নম্বর ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন এক হাজার ২৫০ বর্গফুট এবং ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ভবনের ফ্ল্যাটের আয়তন এক হাজার ৮৫০ বর্গফুট। প্রতিটি ফ্ল্যাটে তিনটি বেডরুম, একটি ড্রয়িংরুম, একটি ডাইনিংরুম, একটি কিচেন ও দুটি বাথরুম রয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের পেছনে ব্যালকনি রয়েছে। ভবনগুলোর চারপাশে গাছগাছালিসহ সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ। ২০০৩ সালের পর থেকে ভবনগুলো এমপি হোস্টেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
শিক্ষাবার্তা /এ/১৫ /০২/২০২৬
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
