এইমাত্র পাওয়া

উজিরপুরে শিক্ষক নির্যাতন: শিক্ষা নেতা সায়েদুজ্জামানের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হারতা এলাকায় শিক্ষক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান। তিনি বলেন, “অভিযোগ থাকলে আইন আছে, আদালত আছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হারতা বাজারে হারতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উত্তম কুমারকে মারধরের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত শিক্ষককে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ঘটনার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান বলেন, “শিক্ষক সমাজ আজ চরম অনিরাপত্তায় ভুগছে। শ্রেণিকক্ষে, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কিংবা বাজারে—কোথাও তারা নিরাপদ নন। এটি কেবল একজন শিক্ষকের ওপর হামলা নয়; এটি গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর আঘাত।”

তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থেকেও থাকে, সেটি তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি দেখবে। কিন্তু সামাজিক চাপ বা ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে গণধোলাই দেওয়ার সংস্কৃতি রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য ভয়াবহ বার্তা দেয়।”

শিক্ষক উত্তম কুমার দাবি করেছেন, অভিযুক্ত তরুণী তাঁর ছাত্রী নন এবং উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। কে বা কারা ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে জানিয়েছেন। অপরদিকে অভিযুক্ত নেতা দাবি করেছেন, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির ভিত্তিতেই তিনি ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে Uzirpur Model Thana-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, ভাইরাল ভিডিওটি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষা নেতা সায়েদুজ্জামান বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ছবি বা তথ্য ভাইরাল হলেই তা সত্য প্রমাণিত হয় না। যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে অপমান বা শারীরিকভাবে নির্যাতন করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তিনি শিক্ষক সমাজকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। শিক্ষকরা যেন কোনো উসকানিতে পা না দেন। একইসঙ্গে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি—এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, অভিযোগ থাকলে সেটি প্রমাণের দায়িত্ব প্রশাসনের। প্রকাশ্যে একজন শিক্ষককে মারধর সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝেও ভুল বার্তা দেয়।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত বা সামাজিক কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তি কখনোই সহিংসতার মাধ্যমে হতে পারে না। শিক্ষক সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে শিক্ষক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষক নেতা এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান।

শিক্ষাবার্তা /এ/১৫ /০২/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.