নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
ইন্দোনেশিয়ায় কেমিত্রান নেগারা বেরকেমবাং (কেএনবি) বা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা কর্মসূচির আওতায় বৃত্তি আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশটির কেএনবি বৃত্তি কর্মসূচির আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হয়। যেকোনো দেশের প্রার্থীরা বৃত্তিটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তিটির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্রুত অগ্রসরমাণ দেশ ইন্দোনেশিয়া। এখানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে শতাধিক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। দেশটির বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়েও জায়গা করে নিয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে পড়াশোনা, ইংরেজি মাধ্যমে বিভিন্ন প্রোগ্রাম, আধুনিক ক্যাম্পাস সুবিধা এবং সরকারি স্কলারশিপ, বিশেষ করে কেএনবি স্কলারশিপ ইন্দোনেশিয়াকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
কেএনবি বৃত্তি কী
কেএনবি ইন্দোনেশিয়ান সরকারি বৃত্তি। এটি মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়। এই বৃত্তি কর্মসূচিতে দেশটির প্রসিদ্ধ ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিয়ে থাকে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ৭১টি উন্নয়নশীল দেশ থেকে আসা ১ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে এই বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানবসম্পদ উন্নয়নে অবদান রাখা, সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সম্পর্ক গভীর করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই বৃত্তি কর্মসূচি সাজানো হয়েছে।
সুযোগ-সুবিধা
ইন্দোনেশিয়ার শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিচালিত মর্যাদাপূর্ণ কেএনবি স্কলারশিপ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শিক্ষা বিনিময় জোরদারের লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে। বৃত্তিটির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকালে প্রায় সব ধরনের খরচ সরকার বহন করবে। শিক্ষার্থীরা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছানোর পর এককালীন ১৫ লাখ রুপিয়া সেটেলমেন্ট অ্যালাউন্স দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিজ দেশ থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত যাওয়া-আসার ইকোনমি ক্লাস বিমানভাড়া এবং স্থানীয় পরিবহন খরচও এই বৃত্তির আওতায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আবেদনের যোগ্যতা
বৃত্তিটির জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩৫ বছর হতে হবে। স্নাতক ডিগ্রির জন্য আবেদন করতে উচ্চমাধ্যমিকের সনদ, স্নাতকোত্তরের জন্য স্নাতক ডিগ্রি এবং পিএইচডির জন্য আবেদন করতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। প্রার্থীদের ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সনদ হিসেবে টোয়েফল বা আইইএলটিএসের সনদ থাকতে হবে।
বৃত্তির মেয়াদ
ইন্দোনেশিয়ান ভাষা কোর্স ও মাস্টার্স প্রস্তুতিমূলক প্রোগ্রামের জন্য সর্বোচ্চ ১২ মাস, ব্যাচেলরে সর্বোচ্চ ৪৮ মাস (৮ সেমিস্টার), মাস্টার্সে ২৪ মাস (৪ সেমিস্টার) এবং পিএইচডির ডিগ্রির সর্বোচ্চ ৩৬ মাস মেয়াদ থাকবে।
আবেদনের প্রয়োজনীয় তথ্য
প্রার্থীদের সিভি, সাম্প্রতিক তোলা ছবি, সব ডিগ্রির সার্টিফিকেট ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, দুটি সুপারিশপত্র, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সনদ, ৫০০ শব্দের মোটিভেশনাল লেটার/স্টাডি প্ল্যান এবং পিতা-মাতার অঙ্গীকারপত্র আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
আবেদনের পদ্ধতি
আগ্রহী প্রার্থীরা লিঙ্কে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।
বৃত্তির সময়সূচি
২ ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু হয়ে চলবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত। আবেদন শেষে আগামী ৪ মে থেকে নির্বাচনপ্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর আগামী ১৯ জুন বৃত্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম ও তালিকা প্রকাশ করা হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
