হঠাৎ যশোর আইটি পার্ক রিসোর্ট বন্ধে দিশাহারা ৬৪ কর্মী

নিউজ ডেস্ক।। 
যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের আলোচিত ‘হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে এই হোটেল ও রিসোর্টের সব বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত মোট ৬৪ কর্মী তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।

যশোর আইসিটি পার্কের অভ্যন্তরে ডরমিটরি ভবনকে বাণিজ্যিক হোটেলে রূপান্তর করার বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই আইটি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। পার্কের পরিবেশ রক্ষা এবং আইটি খাতের বিকাশে গুরুত্ব দিতেই হাইটেক পার্ক অথরিটি এই নির্দেশ জারি করেছে বলে দাবি করেছে সূত্র।

২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আইটি পার্কটির উদ্বোধন করেন। পার্কটির মূল উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সরকার পার্কটি পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল ‘টেকসিটি বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে।

পরবর্তীতে ব্যবসায়িক লোকসান ঠেকানোর অজুহাতে ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি টেকসিটি তাদের ডরমিটরি ভবনটি ১০ বছরের জন্য সাব-লিজ দেয় আমেরিকা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘খান প্রোপার্টিজ গ্রুপ’-কে। এরপরই সেখানে ‘যশোর আইটি পার্ক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামে তিন তারকা মানের বাণিজ্যিক হোটেল যাত্রা শুরু করে। নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এই সাব-লিজ বাতিল ও কার্যক্রম বন্ধের পদক্ষেপ নেয়। হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে কর্মরত ৬৪ জন কর্মী।

আইসিটি পার্ক ইনভেস্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহজালাল জানান, খান প্রোপার্টিজের চুক্তি ছিল টেকসিটি বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকারের সঙ্গে টেকসিটি লিমিটেডের চুক্তি বাতিল করা হয়। ফলে খান প্রোপার্টিজের চুক্তিও অঘোষিতভাবে বাতিল হয়। পরে হাইটেক পার্ক অথরিটি খান প্রোপার্টিজকে সাময়িক সময়ের জন্য অপারেশন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়। ওই সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে শুনেছি।

খান প্রোপার্টিজের পাবলিক রিলেশন অফিসার শামসুজ্জামান স্বজন বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলাম। এখানে আমাদের অনেক টাকা লগ্নি করা হয়েছে। আমরা একটি বিপদ মুহূর্ত পার করছি। আমিসহ ৬৪ কর্মী কর্মসংস্থান হারিয়েছে। আকস্মিক চাকরি হারানোয় সবাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটিতে যদি হোটেল পরিচালনা করা হয় তাহলে খান প্রোপার্টিজের মতো অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানকে সেটা দেওয়া উচিত। কর্মীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাইটেক পার্ক অথরিটি তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলে আশা করি।

হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের যশোরের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপ-সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, যশোর আইসিটি পার্কের এমটিভি ভবনটি হাইটেক পার্ক অথরিটি নিজেরাই পরিচালনা করবে। হোটেল ও ক্যান্টিনের জন্য নতুন টেন্ডার আহ্বান করা হচ্ছে। এজন্য খান প্রপার্টিজের অপারেশন বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইটি পার্কের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং প্রকৃত আইটি উদ্যোক্তাদের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.