নিউজ ডেস্ক।।
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়া আরো কঠোর করা হয়েছে। দেশটির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশকে শিক্ষার্থী ভিসা যাচাইয়ের সর্বনিম্ন ঝুঁকির স্তর (লেভেল-১) থেকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তরে (লেভেল-৩) নামিয়ে আনা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার্থী ভিসা প্রক্রিয়া আরো কঠোর করা হয়েছে। দেশটির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশকে শিক্ষার্থী ভিসা যাচাইয়ের সর্বনিম্ন ঝুঁকির স্তর (লেভেল-১) থেকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তরে (লেভেল-৩) নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে ভিসা আবেদনে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের আগের তুলনায় অনেক বেশি কাগজপত্র ও বিস্তারিত আর্থিক তথ্য জমা দিতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রোভাইডার রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (প্রিজমস) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, এ পরিবর্তন গতকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশকে লেভেল-১ অর্থাৎ সর্বনিম্ন ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছিল। ওই সময় শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে অনেক বেশি আর্থিক নথি জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল না। নতুন সিদ্ধান্তে সে ছাড় বাতিল হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতবিষয়ক অনলাইন প্রকাশনা দ্য কোয়ালা নিউজ জানিয়েছে, বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের এখন ভ্রমণ ব্যয়, অন্তত ১২ মাসের জীবনযাত্রার খরচ, টিউশন ফি, সঙ্গে থাকা পরিবারের সদস্যদের ব্যয় এবং স্কুলপড়ুয়া নির্ভরশীলদের শিক্ষা খরচসহ সবকিছুর জন্য পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ দেখাতে হবে। এতে ভিসা আবেদন প্রস্তুত করতে সময় ও খরচ বেশি হবে এবং যাচাই-বাছাইয়ের চাপও বাড়বে। ফলে ভিসা পেতে দেরি হওয়ার পাশাপাশি আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব হোম অ্যাফেয়ার্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ভিসার কাগজপত্র যাচাইয়ের স্তর গতকাল পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো জালিয়াতি, ভুয়া কাগজপত্র এবং আর্থিক ও একাডেমিক অনিয়ম কমানো। একই সঙ্গে প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থী ভিসার কাগজপত্র যাচাইয়ের স্তর পুনর্নির্ধারণে ভুটান, ভারত ও নেপালকে লেভেল-২ থেকে লেভেল-৩-এ নামিয়ে দেয়া হয়েছে। আর শ্রীলংকাকে লেভেল-১ থেকে নামানো হয়েছে লেভেল-২-এ। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী ফিল হানিউড বলেন, ‘আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের দক্ষিণ এশিয়া সফরের সময় শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনে আর্থিক ও একাডেমিক জালিয়াতির প্রবণতা বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে। প্রকৃত শিক্ষার্থীদের আলাদা করতে নথিপত্র যাচাই-ই এখন সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’ তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ঘন ঘন ঝুঁকির স্তর পরিবর্তনের কারণে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিদেশে নিয়োগ এজেন্টদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে বছরের শুরুতে বড় ভর্তি মৌসুমে।’
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, অতিরিক্ত কাগজপত্রের কারণে ভিসা প্রক্রিয়া জটিল হবে। এতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৯৮ শতাংশ থাকা ভিসা সাফল্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী পাঠানো একটি বড় নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী রবি লোচন সিংহ বলেন, ‘বাংলাদেশ ও নেপালের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত কিছুটা অপ্রত্যাশিত। কারণ সাম্প্রতিক মাসগুলোয় এ দুই দেশ থেকেই ভিসা পাওয়ার হার ছিল বেশ ভালো। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কেউ কেউ ভিন্ন ধরনের ভিসার আবেদন করতে পারে—এমন বিষয়ও কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নিচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জালিয়াতির ধরন দিন দিন বদলাচ্ছে, যা দ্রুত শনাক্ত করা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠছে। বর্তমানে দুই ধরনের জালিয়াতি বেশি ধরা পড়ছে। প্রথমটি হলো এমন আর্থিক নথি, যা দেখতে সম্পূর্ণ আসল মনে হলেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যাংকের ভেতরের যোগসাজশের কারণে তা এজেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাই প্রক্রিয়া পেরিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ধরনের জালিয়াতি তুলনামূলকভাবে আরো জটিল, যা “সার্চ ফান্ড” নামে পরিচিত। এতে অর্থের ব্যবস্থা করতে শিক্ষার্থীরা এমন এজেন্টদের কাছে যান, যারা একই নামের (যেমন বাবা বা দাদার নাম) কিন্তু পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ দেখিয়ে আবেদন সাজায়। এসব অর্থ বাস্তব হলেও তা শিক্ষার্থীর পরিবারের নয়।’
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
