নাজমুল হাসান নয়ন ,নালিতাবাড়ী:শেরপুরের সীমান্তবর্তী উপজেলা নালিতাবাড়ীতে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা ভয়াবহ জনবল সংকটে পড়েছে। উপজেলার ১২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টিতে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে উপজেলার ৫৭.৮৫ শতাংশ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। একই সঙ্গে ৫৩টি সহকারী শিক্ষক পদও শূন্য।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় ২২টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত এবং ৪৮টি বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে একজন সহকারী শিক্ষককেই একযোগে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।
এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি পাঠদানে। জনবল সংকটে অধিকাংশ বিদ্যালয়ে জোড়াতালি দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা শিক্ষার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়েও সংকটের চিত্র উদ্বেগজনক। পাঠদান তদারকি ও মান নিশ্চিত করতে উপজেলাকে পাঁচটি ক্লাস্টারে ভাগ করা হলেও সেখানে ৫ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন। ফলে ৩টি পদ শূন্য রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অফিস সহকারীর দুইটি পদই শূন্য। দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় রয়েছেন মাত্র একজন উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাশিদা বেগম বলেন, “সহকারী শিক্ষকদের দিয়েই বাধ্য হয়ে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ করাতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলোর বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।”
দ্রুত জনবল নিয়োগ ও শূন্য পদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
