ঢাকাঃ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্থগিত করা কর্মবিরতি শেষে আজ বুধবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু করেছেন। দেশের সাত শতাধিক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক ক্লাস কার্যক্রমে ফিরে এসেছে।
সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির (বাসমাশিস) কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, “আমাদের চলমান আন্দোলন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।” শিক্ষক নেতারা জানান, বার্ষিক পরীক্ষা শেষে সরকারকে দাবি মানতে কিছুদিন সময় দেওয়া হবে। এরপর আবারও আন্দোলন পুনরায় শুরু হবে।
অন্যদিকে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা আজ থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেছেন। সকাল ১১টায় স্কুলে তালা লাগিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন প্রাথমিক শিক্ষকরা।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের চার নেতাকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বিভিন্ন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে। বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ জানিয়েছেন, “আমরা দাবি আদায়ে অনড়। আমাদের অনেকে শোকজ পেয়েছেন।”
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে। সহকারী শিক্ষকদের তিনটি মূল দাবি হলো—বেতন স্কেল ১১তম গ্রেডে নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছরের চাকরিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত জটিলতার সমাধান এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।
শিক্ষক নেতারা বলছেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষকদের বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
বর্ষীয়ান শিক্ষকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার মান ঠিক রাখা এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপরও নির্ভর করছে। তাই মাধ্যমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি স্থগিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন এখন শিক্ষার্থীদের অধিকার ও সুরক্ষার সাথে সরাসরি সংযুক্ত।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৩/১২/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
