এইমাত্র পাওয়া

এবার প্রধান উপদেষ্টাকে প্রাথমিক শিক্ষকদের স্মারকলিপি

ঢাকাঃ তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে স্মারকলিপি দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) স্ব স্ব জেলার ডিসির মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেন ৬৪ জেলার প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নেতারা।

স্মারকলিপিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গত ১০ নভেম্বরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বাস্তবায়নের দাবি তুলে ধরা হয়। তাদের দাবিগুলো হলো- সহকারী শিক্ষকদের আপাতত ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।

এছাড়া স্মারকলিপিতে গত ৮ নভেম্বরে ঢাকায় শিক্ষকদের কর্মসূচিতে পুলিশের হামলায় আহত শিক্ষকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং ওইদিন আহত হয়ে পরে মৃত্যুবরণ করা শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তারের পূর্ণ পেনশন দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দেওয়ার নেতৃত্ব দেন ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের’ অন্যতম আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি করছি। আজকে আমরা সব জেলা থেকে ডিসির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। ডিসি অফিস এ স্মারকলিপি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠাবেন। আশা করছি, প্রধান উপদেষ্টা আমাদের যৌক্তিক এ দাবি দ্রুত পূরণ করবেন।’

এদিকে, লাগাতার কর্মবিরতি, বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের পর তিন দফা দাবি আদায়ে এবার কমপ্লিট শাটডাউনে যাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। আগামীকাল বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে এ কর্মসূচি পালন করবেন তারা। একই সঙ্গে উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) অফিসের সামনে অবস্থান নেবেন শিক্ষকরা।

আজ বিকেলে ‌প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, সারাদেশে আমাদের শিক্ষকরা কর্মবিরতি করছেন। দাবি আদায়ে কর্মসূচি করতে গিয়ে অনেকে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং হচ্ছেন। এজন্য আমরা বিদ্যালয় কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করতে যাচ্ছি। রাত ৭টায় ভার্চ্যুয়ালি সভা করে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারাদেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সহকারী শিক্ষক।

প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। তবে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তারা এ নিয়ে অসন্তুষ্ট। গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। এতে গত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বিঘ্নিত হচ্ছে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০২/১২/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading