নিউজ ডেস্ক।। আন্দোলনে অনড় প্রাথমিক শিক্ষকদের ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে সরকার। দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দাবিতে সারাদেশে ফের লাগাতার কর্মবিরতি শুরু শুরু করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা গতকাল রোববারও ক্লাস-পরীক্ষা থেকে বিরত ছিলেন।
আজ সোমবার ও কাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (বার্ষিক পরীক্ষা) বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছেন তারা। এছাড়াও দাবি আদায়ে আগামী ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশনে যাওয়ার ঘোষণা আছে তাদের। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছে সরকার। সূচি অনুযায়ী, প্রাথমিকের তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন শুরুর আগের দিন গতকাল রোববার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় কোনো প্রকার শৈথিল্য বা অনিয়ম ধরা পড়লে শিক্ষকদের শাস্তি পেতে হবে। একই সঙ্গে এ পরীক্ষা বিনা ব্যর্থতায় নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে হবে। দেশব্যাপী সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় সাময়িক পরীক্ষা কার্যক্রম বিনা ব্যর্থতায় নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেয়া হলো।অনলাইন কোর্স
চিঠিটি প্রাথমিক শিক্ষার সব বিভাগীয় উপপরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
দেশের কোথাও কোথাও আজ সোমবার আবার কোথাও কাল মঙ্গলবার শুরু প্রান্তিক মূল্যায়ন। শেষ করতে হবে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে। ১১ তারিখ থেকে সব প্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু। এক কোটির বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা আমাদের বার্তাকে বলছেন, দাবি পূরণ না হওয়া অবধি আমাদের আন্দোলন চলবে। আমাদের কর্মসূচির নাম ‘নো গ্রেড, নো ওয়ার্ক’।
আন্দোলনকারী সংগঠন প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক খায়রুন নাহার লিপি দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চলবে। সারা দেশের শিক্ষকরা এই দাবির পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া থেকে বিরত থাকবেন।
তবে, বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক সমাজের সভাপতি শাহিনুর আল আমিন দৈনিক আমাদের বার্তাকে বলেন, ‘আমরা এই আন্দোলনে নেই। আমাদের আন্দোলন ২৩ নভেম্বর শেষ হয়েছে।’
গত বৃহস্পতিবার থেকে লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্লাস-পরীক্ষা নেয়া থেকে বিরত ছিলেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক। তারা বলেন, সরকার তার দেয়া সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেয়নি। বাধ্য হয়ে লাগাতার কর্মবিরতি যেতে হলো। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই লাগাতার কর্মসূচি চলবে। আশা করি সরকার দ্রুত শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করে অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
অপরদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার গত শনিবার ভোলার এক অনুষ্ঠানে বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের উন্নতির জন্য আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড দিতে পেরেছি এবং সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দিতে পারি কি না সেজন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, আশাকরি সফল হবো।শিক্ষক নেতারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে গত ১২ নভেম্বরের মধ্যে ১১তম গ্রেড দেয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষক হতাশ। এরপর শিক্ষকরা সীমিত পরিষদে কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু সরকার শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিগুলো উপেক্ষা করে আসছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটছেন।
এদিকে প্রাথমিকের শিক্ষকদের এই কর্মসূচিতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেইসঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটির বেশি শিক্ষার্থীর বার্ষিক পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক অভিভাবক। সচেতন অভিভাবকরা দ্রুত এ বিষয়ে সমাধানে পৌছানোর জন্য উভয় পক্ষকে তাগিদ দিয়েছেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
