ঢাকাঃ ভূমিকম্পে পুরো দেশই যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিল। দুর্বল ঘরে থাকা নিম্নবিত্ত থেকে উঁচু ভবনের উচ্চবিত্ত কেউই নিজেকে নিরাপদ মনে করেননি। ভবন কাঠামো, প্রস্তুতি আর সচেতনতা- সবকিছু নিয়ে এখন বাড়ছে নতুন করে উদ্বেগ। নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, এই প্রস্তুতি আগে কখনোই ছিল না, এখনই সময় সবাইকে একসঙ্গে সচেতন হওয়ার।
গত শুক্রবার এক মুহূর্তের কম্পনেই ইট-কাঠের ব্যস্ত এই নগরজীবনটা যেনো থমকে যায় অজানা আতঙ্কে। এমন ভূমিকম্প আগে দেখেনি ঢাকাবাসী। এরপর আরও একাধিক কম্পনের যে রেশ জনজীবনে পড়েছে, সেই মানসিক দুলুনি কাটেনি এখনও।
সাচ্ছন্দ্যে থাকা উচ্চবিত্তরা বুঝেছেন- দুর্যোগের সময় বড়-ছোট কোনও দেয়ালই ততটা শক্ত নয়, যতটা তারা ভাবতেন। ভূমিকম্পে দুলতে থাকা উঁচু ভবনগুলো বুঝিয়ে দিয়েছে- জীবন বড় ক্ষণস্থায়ী।
নগরবাসীরা বলেন, ভূমিকম্প হলে আমাদের কী করতে হবে, আমরা কিন্তু কিছুই জানি না। আমরা কি দৌড়ে রাস্তায় নেমে যাব, না কি ছাদে উঠে যাব? সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণাই নেই।
শিক্ষার্থীদের আতঙ্ক কাটাতে বিভিন্ন স্কুলে এরপর শুরু হয়েছে ভূমিকম্প-ড্রিল। শেখানো হচ্ছে জরুরি মুহুর্তে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেয়ার কৌশল। শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের শিক্ষকরা বলেছেন, তাড়াহুড়ো করে দৌড়ানো যাবে না। স্কুলের ব্যাঞ্চ বা টেবিলের নিচে দাঁড়াতে হবে।
শুধুই কি উচুতলার বাসিন্দা ? নিচুতলার যে মানুষগুলো খেয়েপড়ে কোনোমতে এই শহরে মাথা গোজার ঠাঁই পেয়েছেন বস্তিতে, তারাও রয়েছেন সমান শঙ্কায়।
উচ্চ মাত্রার কোনো ভূমিকম্পে ঢাকা আসলে ঠিক কতটা ভঙ্গুর? এর উত্তর জানতেই কথা হয় নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মোহাম্মদ খানের সঙ্গে। তার মতে, যেহেতু প্রাকৃতিক এই দুর্যোগটির পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব নয়, তাই এই মেগাসিটিতে বেচে থাকতে এখনই সময় সচেতন হওয়ার। পাশাপাশি বাড়াতে হবে প্রস্তুতিমূলক মহড়া।
তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পন হলে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না, যেকোনো ভবনের পিলারের পাশাপাশি থাকতে পারলে ভালো। সিঁড়ি দিয়ে না নেমে, সিঁড়ির পাশে থাকতে পারলে ভালো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী ২০২১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়ে ৪০টির মতো ভূমিকম্প হয়েছে যার উতপত্তিস্থল বাংলাদেশেই।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৬/১১/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
