এইমাত্র পাওয়া

প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর ভিডিও কলে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত ভাইরাল

মেহেরপুর: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদের সঙ্গে দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর ভিডিও কলে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন শিক্ষকের এ ধরনের আচরণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই জেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া, নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড়।

ভিডিওটি প্রকাশের পর হাড়াভাঙ্গা গ্রামসহ পুরো গাংনী উপজেলায় ব্যাপক আলোড়ন দেখা দেয়। বিদ্যালয়জুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকের মতে, একজন প্রধান শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন অনৈতিক আচরণ শুধু নিন্দনীয়ই নয়, তা গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক।

স্থানীয়রা জানান, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ নৈতিকতা, আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি পিতৃতুল্য সুরক্ষা প্রত্যাশা করা হয়। অথচ একজন প্রধান শিক্ষক নিজ দায়িত্বের জায়গা থেকে সরে গিয়ে উল্টো শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক ঘনিষ্ঠতা তৈরির মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন—এ দৃশ্য সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করাটাই স্বাভাবিক।

একজন অভিভাবক বলেন, যেখানে আমরা সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পাঠাই, সেখানে যদি প্রধান শিক্ষকই এ ধরনের আচরণ করেন, তাহলে অন্য শিক্ষকেরা কী বার্তা পাবে?

আরেকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকেরা নৈতিকতার দিশারি। কিন্তু এমন ঘটনা পুরো এলাকার শিক্ষার পরিবেশকে কলুষিত করছে। সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষী হলে কঠোর শাস্তি প্রাপ্য।

ঘটনার পর অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রথম দায়িত্ব। কেউ সে দায়িত্ব অবহেলা করলে বা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

একজন ক্ষুব্ধ অভিভাবক বলেন, আমরা আমাদের সন্তানকে এমন পরিবেশে পাঠাতে চাই না যেখানে শিক্ষকরা নিজেরাই নৈতিকতা বিসর্জন দেন। তদন্ত করে যদি ভিডিওর সত্যতা পাওয়া যায়, তবে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

এইচবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোকলেচুর রহমান বলেন, রাজু আহমেদ বিদ্যালয় থাকলে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আগামীকাল রবিবার (১৬ নভেম্বর) সভাপতি মন্ডলীর মিটিং এর মাধ্যমে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি এখনো আমার জানা নেই। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৫/১১/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading