নিউজ ডেস্ক।।
কুষ্টিয়ায় সিভিল সার্জন অফিসের নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে—পরীক্ষার আগের রাতে এক চিকিৎসকের বাসায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষার্থীদের ‘প্রশিক্ষণমূলক পরীক্ষা’ নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) গভীর রাতে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ হোসেন ইমাম-এর বাসায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৩০ থেকে ৪০ জন পরীক্ষার্থীকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে সারারাত ধরে চলে তথাকথিত “প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা”, যেখানে প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের উত্তর অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরদিন সকালে ওই পরীক্ষার্থীরাই অংশ নেন সিভিল সার্জন অফিসের অধীনে অনুষ্ঠিত সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায়।
স্থানীয় সাংবাদিকরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পান এবং ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। ফুটেজে দেখা যায়, গভীর রাতে পরীক্ষার্থীরা ডাক্তারের বাসায় প্রবেশ করছে এবং সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছে।
একজন পরীক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ভেবেছিলাম পরীক্ষা সুষ্ঠু হবে। কিন্তু যারা টাকা দিয়েছে, তারাই আগেই প্রশ্ন পেয়েছে। এতে পরিশ্রমী প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছে।”
একজন অভিভাবক বলেন, আমাদের সন্তানরা পরিশ্রম করে প্রস্তুতি নিয়েছে, কিন্তু এখন বুঝছি যোগ্যতা নয়, টাকা-পয়সাই সবকিছু। এটা ভীষণ হতাশাজনক।”
এই ঘটনাকে ঘিরে কুষ্টিয়া জেলাজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে পরীক্ষা স্থগিত ও পুনঃনিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সম্প্রতি সাতটি পদে মোট ১১৫ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয় ৪ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত। পদগুলো হলো—স্বাস্থ্য সহকারী (৯৭), পরিসংখ্যানবিদ (৩), কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান (১), স্টোর কিপার (৪), সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (১), অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (৫), ও ড্রাইভার (৪)। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর ২০২৫) সকাল ১০টায় শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন ও আরএমও ডা. মোহাম্মদ হোসেন ইমাম-এর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, আরএমও কোনোভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। শিক্ষার্থীরা তাঁর বাসায় গেছে—এটি সম্পূর্ণ আইনবিরোধী। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। তদন্তের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে সাধারণ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দাবি করেছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে যোগ্য প্রার্থীরা এমন অবিচারের শিকার না হন।”
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল