শরীয়তপুরঃ শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের একমাত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। গতকাল (১৪ সেপ্টেম্বর) ১৫১ নম্বর উত্তর মাথাভাঙা মান্নান সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি নদীতে তলিয়ে যায়। এরপর থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষককে পাশের একটি বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে সংযুক্ত করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের কেউ পাশের জেলা মুন্সিগঞ্জ, কেউবা ঢাকায় আত্মীয়স্বজনদের আশ্রয়ে গিয়ে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা মাদ্রাসায় ভর্তি হচ্ছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চরাঞ্চল ঘেরা ওই ইউনিয়নে ২০১৭ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয় এবং ২০১৮ সালে পাঠদান শুরু হয়। একতলা পাকা ভবনে ৪টি কক্ষে চলতো পাঠদান। কিন্তু চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ভাঙনের আশঙ্কায় পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় ভবনটি সম্পূর্ণ নদীতে তলিয়ে যায়।
প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আল মামুন জানান, ২০২৩ সাল থেকে বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। এবার তা পুরোপুরি বিলীন হয়েছে। এ বছর শিক্ষার্থী ছিল ৫৩ জন। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকই ভাঙনে ঘরহারা হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন।
স্থানীয় কৃষক মকবুল দেওয়ান বলেন, আমার তিন একর জমি ও ঘরবাড়ি পদ্মায় চলে গেছে। দুই ছেলেকে নিয়ে মুন্সিগঞ্জে এসে আশ্রয় নিয়েছি। ওদের সেখানকার এক স্কুলে ভর্তি করিয়েছি, কিন্তু সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি।
অন্যদিকে শিক্ষার্থী ছামিয়ার পরিবার তাকে মুন্সিগঞ্জের একটি আবাসিক মাদ্রাসায় ভর্তি করেছে। তার বাবা ইউসুফ সরকার বলেন, স্কুলের সাথে বাড়িও গেছে পদ্মায়। বাধ্য হয়েই এলাকা ছাড়তে হয়েছে।
ভেদরগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস ছোবহান মুন্সি বলেন, বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর হতে আমরা সেটা চালু করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কোথায়ও জমি পাচ্ছিনা। চরাঞ্চলে একটি জমির সন্ধান পেয়েছিলাম। সেখানে জনবসতি কম। আর এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেখানে যাতায়াত করা কষ্টসাধ্য হবে। সহজ যাতায়াত হবে এমন বিকল্প স্থানে জমি খুঁজছি। এ বিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষার্থী ছিল তাদের আশপাশের বিদ্যালয়ে ভর্তি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়টির তিনজন শিক্ষককে পাশের একটি বিদ্যালয়ে মৌখিক আদেশে সংযুক্ত করা হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু করা গেলে তারা সেখানে ফিরে যাবেন।
এদিকে, গ্রামের ৩০টিরও বেশি পরিবার নদীভাঙনে গৃহহীন হয়েছে। বিদ্যালয়ের জমি যারা দিয়েছিলেন, তারা নতুন জমি দিতে রাজি হলেও স্থানটি মূল গ্রাম থেকে ৫-৬ কিলোমিটার দূরে এবং যাতায়াত করতে একটি নদী পার হতে হয়।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৫/১০/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
