এইমাত্র পাওয়া

নারীপ্রার্থীদের জন্য একশ আসনে সরাসরি নির্বাচন

নারী অধিকারকর্মীদের দাবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০০টি আসনে সরাসরি ভোটে নারীপ্রার্থী দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নারী অধিকারকর্মীরা। তারা বিদ্যমান ৫০টি সংরক্ষিত আসনেও সরাসরি ভোটের প্রস্তাব করেছেন। তাদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে নারীদের সমান অধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা এবং নারী অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন বা পেশাজীবী নারীদেরও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া।

খামারবাড়ি কেআইবি কমপ্লেক্সে গতকাল বৃহস্পতিবার ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীরা কোথায়? জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব’ শীর্ষক সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম আয়োজিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, বিএনপি নেত্রী নিলুফার চৌধুরী মনি, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জামায়াতে ইসলামীর নেত্রী অধ্যাপক হাবিবা আক্তার প্রমুখ।

সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, সংরক্ষিত আসনে নারীদের বসিয়ে রাখা অপমানজনক। নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত। ৩০ শতাংশ নারী প্রার্থী দিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোর। এ ছাড়া নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ জাতীয় সংসদ থেকেই নিশ্চিত করতে হবে।’

নারী ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, অনেক যোগ্য নারী রয়েছেন, যারা শুধু অর্থের অভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। তাই যদি রাষ্ট্র নারীপ্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় বহন করে, তবে নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বাড়বে এবং পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবসান ঘটানোর পথে এটি হতে পারে বড় একটি পদক্ষেপ।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন কোটা সংস্কারের পক্ষে মতামত তুলে ধরেন।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, রাজনৈতিক দলের সমর্থন এবং সহকর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া নারীপ্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। দলগুলোর মধ্যে নারীদের জন্য কোনো সুস্পষ্ট নীতি নেই।

সম্মেলনে বলা হয়- আমরা এমন এক ভবিষ্যৎ চাই, যেখানে নারীরা শুধু ভোটার বা আন্দোলনের অগ্রসৈনিকই নন বরং সংসদীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রীয় শক্তি হয়ে উঠবেন। দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ নারী। তাঁদের যথাযোগ্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে বলা হয়- রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক দলে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারীপ্রার্থীর মনোনয়ন বাধ্যতামূলক করতে হবে এবং আরপিও সংশোধন করে ধাপে ধাপে ৫০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশেষ বন্দোবস্ত হিসেবে সংরক্ষিত ১০০ আসনে নারীদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি তুলে ধরা হয় সম্মেলনে। বক্তারা বলেন, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পরিসর আরও বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব হবে।

শিক্ষাবার্তা /এ/১০/১০/২০২৫

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.