।। শেখ মোহাঃ শাহিনুল আলম।।
জীবনের জন্য শিক্ষা, জীবিকার জন্য দীক্ষা। শিক্ষা যে কোন দেশের নাগরিকের মৌলিক অধিকার। শিক্ষা শুধুমাত্র সনদ নির্ভর হলে নাগরিকের মৌলিক পরিবর্তন হয় না বরং শ্রেণি বৈষম্য সৃষ্টি হয়। শিক্ষা ব্যবস্হা মানুষের চাহিদার সাথে সাথে রূপান্তরিত হওয়া জরুরি। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্হা রূপায়নে অনেক শিক্ষা কমিশন এবং শিক্ষানীতি উপস্থাপন করা হলেও সমাজের চাহিদা পূরণে সকল উদ্যোগ বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
শিক্ষা সংক্রান্ত কোন দর্শনই কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারেনি। শিক্ষা ব্যবস্হা পরিবর্তনে কেন বারংবার অসফল তার কোন গবেষণা নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শিক্ষা কেন্দ্রীক পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় আছে সেখানে প্রতিনিয়ত গবেষনায় নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে তারা কল্যাণমূখী শিক্ষা গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। দেশের আর্থ- সামাজিক প্রেক্ষাপট,রুচি, মূল্যবোধ,কর্মসংস্হানের সম্ভব্যতা এবং বিশ্বমানের দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে শিক্ষা গবেষণায় পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যক।
বর্তমান দেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়ে যে সকল কর্মসূচী চলমান তার কিছু তথ্য পরবর্তী করণীয় ক্ষেত্রে উপস্থাপন করা হলো।
১) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রথম পর্যায়ে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষন প্রদানে স্বল্প মেয়াদি শিক্ষায় ডিপ্লোমা ডিগ্রি ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন এবং মাস্টার্স অব এডুকেশন ডিগ্রি দেয়া হতো।পরর্বতীতে বিএড (অনার্স), এমএড নিয়মিত এবং ইভিনিং এমএড ডিগ্রি কার্যক্রম চলমান। পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই স্বল্প পরিসরে গবেষণা কার্যক্রম চলে কিন্তু শিক্ষায় মৌলিক পরিবর্তনে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছে না।
২) সমাজের চাহিদা নিরূপণ ছাড়াই, কর্মসংস্হানের সুযোগ সৃষ্টি না করে চালু করা হয় বিএড অনার্স এবং এমএড। শিক্ষায় উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কর্ম সংস্থানের ব্যবস্হা না থাকায় হতাশায় শিক্ষার্থীরা।
৩) বিক্ষিপ্ত ভাবে বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা- গবেষনা ইন্সটিটিউটের সাইন বোর্ডে ইভিনিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে শুধুমাত্র সাপ্তাহিক শুক্রবার ছুটির দিনে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের পেশাগত স্বল্প মেয়াদি বিএড – এমএড ডিগ্রি দিচ্ছে, সেখানে গবেষণাধর্মী কোন কার্যক্রম নেই বরং সনদ নির্ভর ডিগ্রি বিতরণ চলছে।
৪) সরকার অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএড – এমএড ডিগ্রি দেয়া হয় সেখানে গবেষণার কার্যক্রম অনুপস্থিত।
৫) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের মাধ্যমে শুধুমাত্র সপ্তাহে একদিন শুক্রবার শ্রেণি কার্যক্রমে শিক্ষা সংক্রান্ত বিএড – এমএড কোর্স পরিচালনা করে। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কোর্স চালানো জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল শিক্ষক নেই বরং টিটি কলেজের শিক্ষকগণ ক্লাস ভিত্তিক সম্মানির বিনিময়ে কাজ করেন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বিএড- এমএড কার্যক্রমে শিক্ষা গবেষণায় কোন অবদান নেই।
৬) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত দেশে সরকারি এবং বেসরকারি ৯০টি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের মাধ্যমে বিএড অনার্স, প্রোফেশনাল বিএড এবং এমএড ডিগ্রি দেয়া হয় এখানেও ফলপ্রসূ কোন গবেষণা নেই।
বিক্ষিপ্ত ভাবে শিক্ষায় শুধু ডিগ্রি নিয়ে কার্যক্ষেত্রে কোন দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে না। জাতীকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে নিতে, সমৃদ্ধ দেশ গড়তে আধুনিক শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। শিক্ষা ব্যবস্হার স্হায়ী এবং ধারাবাহিক পরিবর্তনে গবেষণা খুবই জরুরি আর এই গবেষণার জন্য পৃথক পর্যাপ্ত আর্থিক বরাদ্দসহ পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গঠন করা অত্যাবশক।
দেশের সকল সরকারি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সংক্রান্ত শিক্ষায় ডিগ্রি কার্যক্রমে একই লক্ষ্য নিয়ে পৃথক “টিচার্স এডুকেশন ইউনিভার্সিটি” গঠন করে শিক্ষা ব্যবস্হাকে সমৃদ্ধ করা সহজ এবং দ্রুত হবে। শিক্ষা এবং প্রশিক্ষনের মান নিয়ে সকল বির্তকের অবসান হবে। এই পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় একই লক্ষ্য নিয়ে সকল স্তরের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্হা করবে এবং শিক্ষার জাতীয় লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি,শিক্ষা কমিশন, শিক্ষা সংস্কার, স্তর ভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রনয়নের দায়িত্ব থাকবে এই বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি শিক্ষা ভিত্তিক ডিগ্রির সার্বজনীন সামাজিক মূল্যায়ন সৃষ্টিতে জনমত গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
লেখকঃ অধ্যক্ষ, আলাউদ্দিন আহমেদ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, কুষ্টিয়া।
শিক্ষাবার্তা/এ/২৫/০৯/২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
