এইমাত্র পাওয়া

“লজ্জাহীনরা আজ ভিআইপি-নৈতিকতা নির্বাসনে”

।। এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান।। 

লজ্জা মানুষের চরিত্রের অলঙ্কার, আর নৈতিকতা হলো তার জীবনের দিকনির্দেশনা। কিন্তু আজকের সমাজে যেন এই দুই মূল্যবোধ নির্বাসনে চলে গেছে। লজ্জাহীনরা কেবল টিকে নেই, বরং তারা সমাজের ভিআইপি আসনে বসে সম্মান, প্রভাব ও ক্ষমতা ভোগ করছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো—যে আচরণ একসময় সমাজে ঘৃণিত ছিল, তা আজ কৌশল, বুদ্ধিমত্তা কিংবা সাফল্যের নাম নিয়ে গৌরবের আসনে বসেছে। দুর্নীতি, মিথ্যাচার, প্রতারণা, ক্ষমতার দম্ভ কিংবা অশ্লীল প্রকাশ—এসব লজ্জাহীনতার স্পষ্ট রূপ। অথচ এদের প্রতিহত করার বদলে সমাজ তাদের পুরস্কৃত করছে।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে লজ্জা ইমানের অঙ্গ। লজ্জাহীনতা মানেই ইমানের দুর্বলতা বা অনুপস্থিতি। কিন্তু আমাদের বাস্তবতায় লজ্জাহীন মানুষগুলোই সুযোগ-সুবিধা, মর্যাদা আর নেতৃত্বের আসন পাচ্ছে। সৎ, নীতিবান ও লজ্জাশীল মানুষরা আজ উপহাসের পাত্র, আর বেলজ্জরা “স্মার্ট” হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে। এর ফলেই সমাজে নৈতিকতার ভিত্তি ভেঙে পড়ছে।

এ যেন এক উল্টো পৃথিবী—যেখানে অন্যায়কারীরা সম্মানিত, আর ন্যায়বোধীরা প্রান্তিক। “লজ্জাহীনরা আজ ভিআইপি—নৈতিকতা নির্বাসনে” শুধু একটি শিরোনাম নয়, এটি আমাদের সামাজিক বাস্তবতার নির্মম সত্যচিত্র।

মানব জীবনে লজ্জা একটি মৌলিক গুণ। ইসলামসহ সব ধর্মেই লজ্জাকে নৈতিকতা ও বিশ্বাসের অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে। বিশেষত ইসলাম ধর্মে লজ্জা ও ইমানকে একই সূত্রে গাঁথা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“আল-হায়া (লজ্জা) ইমানের একটি অংশ।” (সহিহ মুসলিম)
অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন:
“যখন তোমার মধ্যে লজ্জা থাকবে না, তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই করবে।” (সহিহ বুখারি)

অর্থাৎ, লজ্জাহীনতা মানুষকে সীমাহীন অন্যায়, অশ্লীলতা ও নৈতিক পতনের দিকে ঠেলে দেয়। ইমান যেমন মানুষের অন্তরকে শুদ্ধ করে, তেমনি লজ্জা তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ কারণে ইমানহীন মানুষ লজ্জাহীন হয়ে পড়ে, আর লজ্জাহীন মানুষ পশুরও অধম হয়ে যায়।

কোরআনেও লজ্জা ও নৈতিকতার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:
“হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের জন্য পোশাক দান করেছি যা তোমাদের লজ্জাস্থান আচ্ছাদিত করে এবং সাজসজ্জা হিসেবে কাজ করে। আর পরহেজগারির পোশাকই উত্তম।” (সুরা আ’রাফ, ৭:২৬)
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, লজ্জা কেবল দেহ আচ্ছাদনের ব্যাপার নয়; বরং এটি অন্তরের পরিশুদ্ধি ও নৈতিকতার প্রতীক।

নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও লজ্জা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে। একজন লজ্জাশীল মানুষ অন্যায়, প্রতারণা বা অশ্লীলতায় জড়াতে দ্বিধা করে। বিপরীতে, লজ্জাহীন মানুষ নিজের স্বার্থে যে কোনো কাজ করতে পারে। তাই সমাজে লজ্জাহীনতার বিস্তার মানেই নৈতিক অবক্ষয়ের প্রসার।

হিন্দু ধর্মে লজ্জা বা ‘লজ্জা বোধ’ মানে নিজের আচরণে দায়িত্ববোধ থাকা। এটি ধর্ম, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত।

ভগবদ গীতা ও ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নিজের কর্ম ও আচরণে লজ্জাবোধ রাখে, সে ধর্মনিষ্ঠ ও নৈতিক।

লজ্জাহীনতা বা অহংকারকে অনৈতিক ও অরাজনৈতিক আচরণের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়—লজ্জা ও ইমান একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লজ্জাহীনতা কেবল ব্যক্তির নয়, গোটা সমাজের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনে। তাই নৈতিক সমাজ গঠনের প্রথম শর্তই হলো—লজ্জা ও ইমানকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আঁকড়ে ধরা।

বর্তমান সমাজে লজ্জাহীনতা এক ভয়ংকর মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। একসময় যে কাজগুলোকে লজ্জাজনক, অনৈতিক কিংবা ঘৃণিত হিসেবে দেখা হতো, আজ সেগুলো অনেক জায়গায় স্বাভাবিক এমনকি ‘সাফল্য’ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। দুর্নীতি, প্রতারণা, মিথ্যাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার—এসব কাজ করা ব্যক্তিরা শুধু টিকে থাকছে না, বরং সমাজের নেতৃত্ব, ক্ষমতা ও মর্যাদার আসনও দখল করছে। ফলে লজ্জাহীন মানুষগুলো আজ সমাজের ভিআইপি হয়ে উঠেছে।

রাজনীতির ময়দান থেকে শুরু করে প্রশাসন, ব্যবসা কিংবা বিনোদন জগত—সবখানেই লজ্জাহীনতার প্রবল দাপট চোখে পড়ে। যাদের চরিত্র প্রশ্নবিদ্ধ, যাদের আচরণ সমাজের জন্য ক্ষতিকর, তারাই কখনো নেতা, কখনো জনপ্রতিনিধি, আবার কখনো মিডিয়ার আলোচ্য ‘সেলিব্রিটি’। অন্যদিকে সৎ, পরিশ্রমী ও নীতিবান মানুষগুলোকে দেখা যায় উপেক্ষিত, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের শিকার বা প্রান্তিক অবস্থানে। এতে সমাজে এক ভয়াবহ বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে—লজ্জা ও নৈতিকতা দিয়ে এগোনো যায় না, বরং বেলজ্জতার মাধ্যমেই সাফল্য ধরা দেয়।

ফলে সমাজে সৎ ও লজ্জাশীল মানুষদের মাঝে হতাশা বাড়ছে। নতুন প্রজন্ম বিভ্রান্ত হচ্ছে; তারা ভাবছে—যেখানে লজ্জাহীনরা পুরস্কৃত, সেখানে লজ্জা ধরে রাখারই বা মানে কী! এই চক্র চলতে থাকলে নৈতিক ভিত্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

বাস্তবতা হলো, লজ্জাহীনদের জয়গান গাওয়া সমাজ শেষ পর্যন্ত ধ্বংসের পথে এগোয়। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, যে সমাজে নৈতিকতার পরিবর্তে বেলজ্জতা সম্মানিত হয়, সেই সমাজ কখনো টেকসই উন্নয়ন কিংবা স্থায়ী শান্তি লাভ করতে পারে না। তাই এখনই আমাদের ভাবতে হবে—আমরা কি লজ্জাহীনতাকে মর্যাদা দেব, নাকি নৈতিকতাকে পুনর্জাগরণ ঘটাবো

লজ্জাহীনতা যখন সমাজে সাধারণ হয়ে যায়, তখন নৈতিক অবক্ষয় অনিবার্য হয়ে ওঠে। আজ আমাদের সমাজে সেই চিত্র স্পষ্ট। রাজনৈতিক অঙ্গনে দুর্নীতি ও ক্ষমতার দম্ভ প্রকাশ্যে চলছে, অথচ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে তাদের আরও ক্ষমতায় বসানো হচ্ছে। ব্যবসায় অতি মুনাফা, ভেজাল ও প্রতারণা চলছে প্রকাশ্যে, কিন্তু লজ্জাহীন ব্যবসায়ীরাই ধনকুবের ও সমাজপতি হয়ে উঠছে। শিক্ষা ও মিডিয়ার মতো ক্ষেত্রেও সত্য ও নৈতিকতার পরিবর্তে মিথ্যা, প্রদর্শনবাদ ও কৌশলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ফলে সামাজিকভাবে এক বিপজ্জনক বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে—“যত বেশি বেলজ্জ হবে, তত বেশি এগোবে।” এ কারণে সাধারণ মানুষ অন্যায়কে অন্যায় ভাবতে পারছে না, বরং সাফল্যের সূত্র মনে করছে। যেমন—অশ্লীলতা ও অনৈতিক বিনোদন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, ঘুষ ও তদবিরকে দক্ষতা মনে করা হচ্ছে, দুর্নীতিবাজদের বিলাসবহুল জীবনকে অনুকরণের বস্তু বানানো হচ্ছে। এর ফলেই সমাজে সততা, লজ্জা ও মানবিকতা পরাজিত হচ্ছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, তরুণ প্রজন্ম এই অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে। তারা দেখে—যে সৎ, সাদাসিধে আর নীতিবান, সে অবহেলিত; আর যে বেলজ্জ, তার জন্য সমাজে সম্মান ও সুযোগের দরজা খোলা। এতে তরুণরা ভুল পথে আকৃষ্ট হচ্ছে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও যখন এই মূল্যবোধ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখন লজ্জাহীনতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

অতএব, সামাজিক অবক্ষয়ের মূল শিকড় এই লজ্জাহীনতা। যদি এ প্রবণতা বন্ধ না হয়, তবে ভবিষ্যৎ সমাজ হবে চরিত্রহীন, নৈতিকতাহীন এবং আত্মাহীন—যেখানে মানুষ শুধু দেহে মানুষ থাকবে, কিন্তু গুণে পশুরও অধম হয়ে পড়বে।

আজকের সমাজে লজ্জাহীনতাই যেন সবচেয়ে বড় যোগ্যতা। যিনি যত বেশি বেলজ্জ, তিনি তত বেশি ‘স্মার্ট’ হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন। রাজনীতিতে যারা প্রতিশ্রুতি ভাঙে, ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি করে, জনগণকে ঠকায়—তাদেরই সম্মানিত আসনে বসানো হচ্ছে। প্রশাসনে যারা ঘুষ নেয়, তারা হয়ে উঠছে প্রভাবশালী। ব্যবসায় যারা ভেজাল মিশিয়ে জনগণের জীবন নিয়ে খেলা করছে, তারাই আজ সম্মানিত ‘বিজনেস আইকন’। যেন বেলজ্জতাই পদোন্নতির সিঁড়ি, আর নৈতিকতা হয়ে গেছে বোকার প্রতীক।

মজার বিষয় হলো, সমাজ এখন উল্টো মূল্যবোধে দাঁড়িয়ে আছে। যে বেশি লজ্জাশীল, তাকে বলা হয় ‘সোজা-সাপ্টা’ বা ‘অযোগ্য’; আর যে বেশি ধূর্ত ও নির্লজ্জ, তাকে দেওয়া হয় করতালি। যেমন—অশ্লীলতা প্রচার করলে ‘সাহসী শিল্পী’, মিথ্যা বললে ‘চতুর নেতা’, ঘুষ খেলে ‘চালাক কর্মকর্তা’। এই ব্যঙ্গাত্মক বাস্তবতা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে—নৈতিকতা নির্বাসনে চলে গেছে, আর লজ্জাহীনতাই আজ সমাজের ভিআইপি।

এ যেন এক উল্টো পৃথিবী—যেখানে অন্যায়কারীরা পুরস্কৃত, আর ন্যায়বোধীরা শাস্তিপ্রাপ্ত। মানুষ এখন প্রতিযোগিতা করছে কে বেশি বেলজ্জ হতে পারে! ফলে সমাজে সততা, ভদ্রতা বা লজ্জার কোনো দাম নেই। দাম আছে শুধু মুখোশ পরা নির্লজ্জতার।

যদি এই প্রবণতা চলতেই থাকে, তবে একদিন ইতিহাস লিখবে—“এমন এক সমাজ ছিল, যেখানে লজ্জাহীনদের জন্য ছিল সম্মান, আর নৈতিক মানুষদের জন্য ছিল উপহাস।”

লজ্জাহীনতার বিস্তার কোনো সমাজের জন্যই শুভ নয়। যখন লজ্জা হারিয়ে যায়, তখন নৈতিকতা ভেঙে পড়ে, আর সমাজের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়। প্রথমত, ব্যক্তিগত পর্যায়ে লজ্জাহীন মানুষ অন্যায়কে স্বাভাবিক মনে করে। ফলে তার চরিত্র ও বিশ্বাস ধ্বংস হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, পারিবারিক সম্পর্কে ভাঙন সৃষ্টি হয়। যেখানে লজ্জা নেই, সেখানে অশ্লীলতা, প্রতারণা ও অবিশ্বাস বেড়ে গিয়ে পারিবারিক শান্তি নষ্ট হয়।

সমাজের বৃহত্তর পরিসরে লজ্জাহীনতার পরিণতি আরও ভয়াবহ। রাজনীতিতে এটি দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়, প্রশাসনে এটি অন্যায়ের শিকড় গেড়ে বসায়, আর ব্যবসায় এটি জনগণের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। যখন এই প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন সমাজে অন্যায়কারীরাই প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, আর নৈতিক মানুষরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষ ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য হারিয়ে ফেলে, আর তরুণ প্রজন্ম শিখে নেয়—“সফল হতে চাইলে বেলজ্জ হতে হবে।”

কোরআনে আল্লাহ সতর্ক করেছেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।” (সুরা রা’দ, ১৩:১১)
এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়—যদি আমরা লজ্জা ও নৈতিকতাকে ফিরিয়ে না আনি, তবে সমাজের অবক্ষয় অব্যাহত থাকবে।

অবশেষে, লজ্জাহীন সমাজে উন্নয়ন হলেও তা হবে ভেতরে পচা গাছের মতো—দেখতে সবল, কিন্তু ভেতরে ফাঁপা। এর শেষ পরিণতি হবে ধ্বংস, যা থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো লজ্জা ও নৈতিকতার পুনর্জাগরণ।
লজ্জাহীনতা সমাজের নৈতিক অস্থিরতার প্রধান কারণ। আজ যে লজ্জাহীনরা ভিআইপি হয়ে উঠেছে, তাদের দাপট সমাজকে সংকীর্ণ দিক দিয়ে পরিচালিত করছে। কিন্তু আশার কথা হলো—পরিবর্তন সম্ভব, যদি আমরা নৈতিকতা ও লজ্জাকে জীবনযাপনের অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে গ্রহণ করি।

প্রথমত, ব্যক্তিগত প্রতিরোধ জরুরি। প্রতিটি মানুষকে নিজের চরিত্র, ইমান ও লজ্জা রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে। ছোট ছোট সততা, সত্যবাদিতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতার বাতাবরণ সৃষ্টি করা সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষা ও পরিবারকে শক্তিশালী করতে হবে। শিশুরা ও তরুণ প্রজন্মকে সততা, লজ্জা ও নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের জীবনের প্রথম নৈতিক বিদ্যালয়।

তৃতীয়ত, সামাজিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি ও দণ্ডবিধি প্রয়োগ করা প্রয়োজন। দুর্নীতি, প্রতারণা বা অন্যায়কারীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হলে বেলজ্জতা কমবে, নৈতিকতার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে।

ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধকে পুনঃজাগ্রত করতে হবে। ইসলামসহ অন্যান্য ধর্মের শিক্ষা আমাদের বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়—লজ্জা ও ইমান ছাড়া মানবজীবন অসম্পূর্ণ। কোরআনের আয়াত ও হাদিসের নির্দেশ অনুসরণ করে আমরা সমাজে নৈতিকতার পুনরুদ্ধার করতে পারি।

অতএব, লজ্জাহীনদের ভিআইপি আসন সাময়িক হলেও, সৎ ও লজ্জাশীল মানুষরা সমাজে স্থায়ী প্রভাব রাখতে সক্ষম। পরিবর্তন শুরু হয় ব্যক্তিগত জীবন থেকে, ছড়িয়ে পড়ে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজে। লজ্জা ও নৈতিকতার পুনর্জাগরণ না হলে, ভবিষ্যৎ সমাজ হবে চরিত্রহীন, ভাঙাচোরা ও অমানবিক। তাই লজ্জা ও নৈতিকতার আহ্বান আজই আমাদের করণীয়।

লেখা : সম্পাদক, শিক্ষাবার্তা । 

শিক্ষাবার্তা/এ/১৯/০৯/২৫

 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.