এইমাত্র পাওয়া

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হতে ২০০ কোটি: ক্যানসার হাসপাতাল কেলেঙ্কারি

।। এ এইচ এম সায়েদুজ্জামান।। 

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে আলোচিত। সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ডা. শেখ গোলাম মোস্তফার

বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, যিনি ক্যানসার হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে দুদকের অভিযানে প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি হাসপাতালের অর্থ থেকে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে তার একটি বড় অংশ, প্রায় ২০০ কোটি টাকা, ব্যয় করেছেন কেবলমাত্র স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হওয়ার জন্য ঘুষ হিসেবে। এই ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তির দুর্নীতির কাহিনি নয়; বরং এটি পুরো স্বাস্থ্যখাতের ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্রকে নগ্ন করে তুলেছে।

প্রশ্ন জাগে—একজন চিকিৎসক যদি ২০০ কোটি টাকা ঘুষ দিতে পারেন, তবে তার হাতে কত হাজার কোটি টাকার অবৈধ অর্থ জমা হয়েছে? আর সেই অর্থ এসেছে কোথা থেকে? সহজ উত্তর—এটি এসেছে সেই হাসপাতাল থেকে, যেখানে প্রতিদিন হাজারো ক্যানসার রোগী আশার আলো নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসে। রোগীদের কষ্টার্জিত টাকা, সরকারি বরাদ্দ কিংবা বিদেশি অনুদান—সবই দুর্নীতির জালে আটকা পড়ে লুটপাটের শিকার হয়েছে। এর ফলে রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাবে জীবন হারাচ্ছেন।

এই কেলেঙ্কারি কেবল একটি হাসপাতালের নয়, বরং গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা, জবাবদিহির অভাব এবং নিয়োগে ঘুষের সংস্কৃতির প্রতিফলন। দুদকের অভিযান সত্যতা প্রমাণ করলেও, প্রশ্ন থেকে যায়—কেবল একজনকে ধরা দিয়ে কি এ গভীর দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব? এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো, স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে উন্নত চিকিৎসা ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা কেবল কাগুজে স্বপ্ন হয়েই থাকবে।

ছবি: ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির যে ভয়াবহ চিত্র প্রায়ই সামনে আসে, ক্যানসার হাসপাতালের সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারি তারই একটি নগ্ন উদাহরণ। ক্যানসার হাসপাতালের পরিচালক পদে দায়িত্বে থাকা ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা

 

 

নিজের অবস্থান ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের অর্থ লুট করেছেন বলে দুদকের তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। সাধারণত এই পদে থাকা ব্যক্তির দায়িত্ব হলো হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা, রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সরকারি বরাদ্দ ও দানকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করা। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি; বরং পদটি পরিণত হয়েছে অর্থ লুটের হাতিয়ারে।

অভিযোগ রয়েছে, রোগীদের চিকিৎসার নামে গৃহীত অর্থ থেকে শুরু করে সরকারি বাজেট, অনুদান ও বিদেশি সহযোগিতার টাকাও আত্মসাৎ করা হয়েছে। হাসপাতালের ব্যয় খাতে কাল্পনিক প্রকল্প দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে, আবার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনায় অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে অর্থ সরানো হয়েছে। এমনকি ওষুধ ও কেমোথেরাপির জন্য নির্ধারিত তহবিল থেকেও বড় অঙ্কের টাকা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

এই অর্থ লুটের পেছনে যে অশুভ উদ্দেশ্য কাজ করেছে তা আরও ভয়াবহ। জানা গেছে, পরিচালক পদে থাকা চিকিৎসক তার অবৈধ অর্থের একটি বড় অংশ ব্যবহার করেছেন উচ্চপদে ওঠার জন্য ঘুষ হিসেবে—শুধু স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হওয়ার স্বপ্নপূরণে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। এ ঘটনা প্রমাণ করে যে স্বাস্থ্য খাত কেবল দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়নি, বরং ক্ষমতা অর্জনের প্রতিযোগিতায় হাসপাতালের অর্থকে ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির জন্য।

এমন পরিস্থিতি শুধু স্বাস্থ্য খাতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে না, বরং হাজারো ক্যানসার রোগীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার শামিল হচ্ছে। সরকারি অর্থ ও দানকৃত সম্পদের এভাবে অপব্যবহার প্রতিটি নাগরিকের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ, যা বন্ধ করতে কঠোর জবাবদিহি ও শাস্তির ব্যবস্থা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে নানা সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ক্যানসার হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোস্তফার বিরুদ্ধে দুদকের অভিযানে পাওয়া তথ্য সেই আশঙ্কাকে আরও স্পষ্ট করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হওয়ার জন্য তিনি ২০০ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন। এমন অঙ্কের ঘুষ শুধু ব্যক্তিগত লোভ নয়, বরং পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দুর্নীতির গভীরতা ও বাজারদরকে তুলে ধরে।

একজন চিকিৎসক যদি একটি উপদেষ্টা পদ পাওয়ার জন্য ২০০ কোটি টাকা দিতে রাজি হন, তবে বোঝাই যায়, স্বাস্থ্য খাতের ভেতরে কত হাজার কোটি টাকার কালো অর্থ প্রবাহিত হচ্ছে। হাসপাতালের মতো জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করে এমন লেনদেন হওয়া মানে সাধারণ রোগীর কষ্টার্জিত টাকা, সরকারি বরাদ্দ ও দাতাদের অনুদান সরাসরি দুর্নীতির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের চিকিৎসা যেখানে ব্যয়বহুল, সেখানে হাসপাতালের সম্পদ লুট হয়ে যাওয়া মানবিকতার চরম অবমাননা।

দুদকের তদন্তে ডা. মোস্তফার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অসাধু উপায়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় স্পষ্ট বোঝা যায়, স্বাস্থ্যখাতে গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ বা উপদেষ্টা হওয়ার মতো পদে এক ধরনের “বাজারদর” তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, যোগ্যতা ও সেবার মানদণ্ড নয়, বরং টাকার পরিমাণই অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ ও পদোন্নতির মূল নির্ধারক।

এ ধরনের ঘটনা শুধু স্বাস্থ্যখাতের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে না, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দ্রুত সঠিক তদন্ত, অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি এবং স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

স্বাস্থ্য একটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপব্যবহারের শিকার। হাসপাতাল থেকে টাকা চুরি বা বাজেটের টাকা আত্মসাৎ হলে এর সরাসরি ভুক্তভোগী হয়ে পড়ে সাধারণ রোগীরা। যেসব অর্থ দিয়ে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনা, ওষুধ সরবরাহ কিংবা চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা, সেই অর্থ ব্যক্তিগত পকেটে গেলে রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা পান না। ফলে অনেক সময় রোগীকে বাইরে থেকে উচ্চমূল্যে ওষুধ কিনতে হয়, এমনকি সাধারণ টেস্টের জন্যও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় ক্যানসার, কিডনি, হৃদরোগ বা দীর্ঘস্থায়ী রোগীদের ক্ষেত্রে। ক্যানসার চিকিৎসার খরচ , দুর্নীতির কারণে সেই ব্যয় আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় রোগীরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অতি ব্যয়বহুল কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নিতে বাধ্য হন। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। অনেকেই চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর মুখে পতিত হন, যা মূলত রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ও দুর্নীতির ফল।

স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি শুধু রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত করে না, বরং সাধারণ মানুষের করের টাকার অপব্যবহার ঘটায়। জনগণের টাকায় গড়ে ওঠা হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও প্রকল্পগুলো যদি যথাযথভাবে ব্যবহৃত না হয়, তবে জাতির আর্থসামাজিক উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হয়। একদিকে স্বাস্থ্যসেবার মান পড়ে যায়, অন্যদিকে জনগণের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়।

 স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা ছাড়া এ অবস্থা বদলানো সম্ভব নয়। মনে রাখতে হবে—স্বাস্থ্য খাতে অপচয় মানে শুধু অর্থের ক্ষতি নয়, বরং মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলা।

বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি দীর্ঘদিনের এক বড় সমস্যা। এর মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর প্রশাসন কিংবা স্থানীয় সরকার—সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতির প্রভাব সুস্পষ্ট। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নিয়মিত অভিযান ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। তাদের অভিযানে প্রায়শই ঘুষ লেনদেন, টেন্ডার জালিয়াতি, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল ভাউচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো প্রমাণ পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের অফিস থেকে মোটা অঙ্কের নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, দলিলপত্র ও ব্যাংক হিসাবের প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে। এসব তথ্য প্রমাণ প্রমাণ করে যে দুর্নীতি কেবল কথার বিষয় নয়, বরং বাস্তবতার নগ্ন রূপ।

দুর্নীতি দমন করতে দুদকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটি শুধু তদন্ত ও গ্রেপ্তারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমেও কাজ করে। যেমন, হটলাইন চালু করে সাধারণ মানুষকে অভিযোগ জানানোর সুযোগ দেওয়া, বিভিন্ন দপ্তরে নজরদারি জোরদার করা এবং বড় বড় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা—এসবই দুদকের কার্যক্রমের অংশ। যদিও ক্ষমতাধরদের প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপ অনেক সময় তাদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করে, তবুও সক্রিয় পদক্ষেপের ফলে বহু দুর্নীতিবাজ আইনের মুখোমুখি হয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলা দায়ের করা হয় এবং আদালতে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হিসেবে কারাদণ্ড, জরিমানা কিংবা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। দুর্নীতি দমন আইন অনুযায়ী, কেউ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ বা ঘুষ গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করাই সবচেয়ে জরুরি।

সর্বোপরি, দুদকের অভিযান শুধু দুর্নীতির চিত্র উন্মোচনই করে না, বরং দুর্নীতিবাজদের জন্য সতর্কবার্তাও হয়ে দাঁড়ায়। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে যদি আইনি প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা যায়, তবে দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি রোধ এবং জনগণের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে তা নিয়মিত প্রকাশ করতে হবে। প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে ওষুধ সরবরাহ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

দ্বিতীয়ত, হাসপাতালের অর্থ ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি আরোপ করা উচিত। বাজেটের টাকা যেন অপব্যবহার না হয়, সেজন্য ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা যেতে পারে। একই সঙ্গে অর্থের ব্যবহার যাচাইয়ের জন্য মাসিক বা ত্রৈমাসিক অডিট বাধ্যতামূলক করতে হবে। এর ফলে অনিয়ম আগেভাগেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তৃতীয়ত, স্বাস্থ্যখাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নিয়োগ ও উপদেষ্টা পদে ঘুষের সংস্কৃতি। অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ দিয়ে চাকরি বা পদোন্নতি হয়, যার ফলে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয় এবং অযোগ্য ব্যক্তিরা দায়িত্বে আসে। এটি বন্ধ করতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তি নির্ভর পদ্ধতি, লিখিত পরীক্ষা ও স্বচ্ছ সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।

চতুর্থত, স্বাধীন অডিট ও জনসম্মুখে প্রতিবেদন প্রকাশ অত্যন্ত প্রয়োজন। সরকার-নিয়ন্ত্রিত অডিট ছাড়াও আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীন অডিট সংস্থা দিয়ে নিয়মিত তদন্ত করানো উচিত। এসব প্রতিবেদনে পাওয়া অনিয়ম জনগণের সামনে উন্মুক্ত করতে হবে। এতে শুধু দুর্নীতিবাজরা চাপে পড়বে না, বরং সাধারণ মানুষের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।

সর্বোপরি, স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা, সঠিক অর্থ ব্যবস্থাপনা, ঘুষমুক্ত নিয়োগ এবং স্বাধীন অডিট ব্যবস্থা চালু করা গেলে দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। মনে রাখতে হবে—স্বাস্থ্যখাতের অপচয় মানে জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা। তাই আজই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে ২০০ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যখাতের ভয়াবহ দুরবস্থার প্রতিচ্ছবি। যখন একজন উচ্চপদস্থ চিকিৎসক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার প্রলোভনে এমন বিশাল অঙ্কের ঘুষের সাথে জড়িত থাকেন, তখন বোঝা যায় দুর্নীতি কতটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। এই ধরনের ঘটনা শুধু স্বাস্থ্যসেবার মান নষ্ট করে না, বরং সাধারণ মানুষের আস্থা ভেঙে দেয় এবং করের টাকার অপচয় ঘটায়।

অতএব, এ ধরনের দুর্নীতি চক্রকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি। ন্যায়বিচারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই দুর্নীতিবাজদের জন্য সতর্কবার্তা তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্বাধীন অডিট প্রক্রিয়া জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। মনে রাখতে হবে—স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি মানে কেবল অর্থের অপচয় নয়, বরং হাজারো মানুষের জীবনের সাথে নির্মম প্রতারণা।

লেখক: সম্পাদক,  শিক্ষাবার্তা।

শিক্ষাবার্তা /এ/ ২৮/০৮/২০২৫

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.