এইমাত্র পাওয়া

অস্বাস্থ্যকর খাবার, ক্যান্টিন বন্ধ করলেন চবি শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রামঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আলাওল ও এএফ রহমান হল সংলগ্ন ‘আলম ভাইয়ের দোকান’ ও ক্যান্টিনে তালা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন ধরে ‘পচা’ ও ‘অস্বাস্থ্যকর’ খাবার পরিবেশনের অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ১৩টি দাবি উপস্থাপন করেছেন।

আজ শনিবার বেলা ২টা ৩০ মিনিটের দিকে যখন ক্যান্টিন মালিক এক শিক্ষার্থীর কাছে ময়লা হাতে খবর পরিবেশনা করেন। এতে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করলে ক্যান্টিন মালিক ‘খাইলে খাইবেন, না খাইলে খাইবেন না।’ এমন মন্তব্য করেন। পরে শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আলাওল এবং এ এফ রহমান হলের থেকে নেমে আসে।

শিক্ষার্থীরা আলম ভাইয়ের দোকান ও ক্যান্টিনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে অর্থনীতি বিভাগের হাউস টিউটর মোরশেদুল হক ঘটনাস্থলে গেলে ২০ মিনিটের মধ্যে তালা খুলে পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে সহকারী প্রক্টর কোরবান আলী, নুরুল হামিদ কানন এবং হাউস টিউটরের উপস্থিতিতে সেই দোকান, ক্যান্টিন এবং এ এফ রহমান হলের ডাইনিং পরিদর্শন করে ‘পঁচা খিচুড়ি’, ‘পঁচা ডিম’ পান। যার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ১৩টি দাবি তুলে ধরে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এইচ এম সাজ্জাদ বলেন, “ক্যাফেটেরিয়ায় আজ সকালের নাস্তা করতে গেলাম। আলী পরোটা বানাচ্ছিল, আমি তিনটা বানাতে বললাম। আসিফ ভেতরে গিয়ে বানানো শুরু করল, কিন্তু হাত ধোয়নি। তিনি আগে ক্যাশিয়ারের কাজ করছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করায় বলল, গামছায় হাত মুছে নিয়েছেন। তখন ক্যাফেটেরিয়ার মালিক ভেতর থেকে এসে চেঁচিয়ে বললেন, ‘খাইলে খাইবেন, না খাইলে খাইবেন না।”

রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘দুই মাস আগেও এই ক্যান্টিন ও হলের খাবার খেয়ে আমার পেট খারাপ হয়েছিল। আজ আবার যখন শিক্ষার্থীকে বলা হলো—খাইলে খাও, না খাইলে চলে যাও—তখন আমরা সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে নেমে আসি।’

তবে ক্যান্টিন মালিক হেলাল উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ওই কথা বলিনি। আর ফ্রিজে পাওয়া পচা খাবার পরশুর অনুষ্ঠানের বেঁচে যাওয়া খাবার, যা ফেলে দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল, শিক্ষার্থীদের খাওয়ানোর জন্য নয়।’

এএফ রহমান হলের ডাইনিং ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘হলে যে পচা ডিম পাওয়া গেছে, সেগুলো ফেরত দিয়ে ভালো ডিম আনার জন্য রাখা হয়েছিল। একই ফ্রিজে পচা ও ভালো ডিম ছিল, তবে আলাদা জায়গায় রাখা হয়েছিল।’

এ ব্যাপারে এএফ রহমান হলের হাউস টিউটর অর্থনীতি বিভাগের মোরশেদুল হক বলেন, প্রভোস্ট এই ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না নিলে আমি আজকে থেকে এই হলে এর থাকবো না। আর এই মুহুর্ত থেকে আলম ভাইযের দোকান এবং ক্যান্টিন আমি বন্ধ ঘোষণা করছি।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী প্রক্টর কোরবান আলী এবং নুরুল হামিদ কানন এএফ রহমান হলের সামনে উপস্থিত হন এবং সহকারী প্রক্টর কানন বলেন, আমরা এসে খাবারের বাজে অবস্থা দেখেছি এবং এত বাজে অবস্থা থাকার পরও শিক্ষার্থীরা যে মব সৃষ্টি করেনি; সেটির ব্যাপারে আমি সাধুবাদ জানাই। কারণ, আগের সময় দেখেছি- খাবার এই বাজে অবস্থার কারণে মব হয়েছিল। আমরা হল কর্তৃপক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবো এবং এই দোকান ও ক্যান্টিন বন্ধ থাকবে।’

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৯/০৮/২০২৫  


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading