সিরাজগঞ্জঃ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপির দ্রুত অনুমোদন ও পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবিতে আজও বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল, সড়ক অবরোধ এবং জনসংযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।
সকাল ১০টা দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-২ থেকে মৌন মিছিল শুরু হয়ে ঢাকা-পাবনা মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শাহজাদপুর বিসিক বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়।
পরে আন্দোলনকারীরা তাদের দাবির প্রতি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে শাহজাদপুর বাজার, বিসিক বাসস্ট্যান্ড, বাঘাবাড়ি বন্দর ও দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জনসংযোগ করেন।
এ ছাড়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এর সামনে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে সংক্ষিপ্ত অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজরিত শাহজাদপুরে রেখে যাওয়া ২২৫ একর জায়গা বরাদ্দ করে প্রায় নয় বছর আগে ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই প্রতিষ্ঠা পায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলা, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, সঙ্গীত ও ব্যবস্থাপনা নামে পাঁচটি বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক হাজার ২০০। ৩৪ শিক্ষক, ৫৪ কর্মকর্তা ও ১০৭ কর্মচারী রয়েছে প্রতিষ্ঠানে।
শাহজাদপুর মহিলা কলেজ, সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া ডিগ্রি কলেজসহ ভাড়া করা দুটি বাড়িতে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। সব সুবিধা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিজস্ব ক্যাম্পাস নির্মানে প্রকল্প জমা দিলেও তা অনুমোদন হয়নি।
সবশেষ ২০২৫ সালে ১০০ একর জমিতে ৫১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরে নতুন প্রস্তাব পাঠানো হয়; যা একনেকে অনুমোদেনের নীতিগত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে ছিল। ১৬ জুন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ফিরে গিয়ে উপদেষ্টা এই স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস না করার প্রস্তাবনা দেন।
রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি অনুমোদন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে তাদের দাবি, হতাশা ও ক্ষোভের কথা জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
শনিবার রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচি বয়কটের মধ্যদিয়ে লাগাতার আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে না হওয়ায় পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/৩১/০৭/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
