ঢাকাঃ এমপিও ভুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবি নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন সারাদেশ থেকে আগত প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ প্রতিদন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে অবস্থান নিয়েছেন তারা।
শিক্ষকরা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখার প্রায় ৯ শতাংশ প্রতিবন্ধী। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকার তা না করে বিষয়টা শিক্ষা উদ্যোক্তাদের উপর ছেড়ে দিয়েছে। বারবার এমপিও ও স্বীকৃতির দাবি করেও কোনো লাভ হয়নি।
তারা বলেন, ‘আজ আমরা দ্বিতীয় দিনের মতো জাতীয় প্রেসক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। এবার দাবি আদায় না করে আমরা ছাড়বো না। এখনো আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি।’
বাংলাদেশ প্রতিদন্ধী বিদ্যালয় সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিমা খাতুন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘গতকাল থেকে আমরা এখানে আছি। বিশাল জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করে একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আপনারা জানেন যে, সারাদেশে মতবিনিময়, মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার মধ্য দিয়ে আন্দোলনের কর্মসচি ও দাবিনামা নিয়ে ব্যাপক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়েছে। এবার দাবি আদায়ে আমরা শান্তিপূর্ণ ভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।’
সারাদেশ থেকে ৭২টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধিরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
আন্দোলনকারীরা জানায়, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলোর স্বীকৃতি ও এমপিওর জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করে। ওই প্রজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে ২৭৪১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৭৭২টি আবেদন গ্রহণ করে। এরপর অফলাইনে প্রায় ২০০টির মতো বিদ্যালয় স্বীকৃতি ও এমপিওর জন্য আবেদন গ্রহণ করে।
পরবর্তীতে বিশেষ শিক্ষা নীতিমালা ২০১৮-এর আলোকে জাতীয় স্বীকৃতি ও এমপিও কমিটি গঠন পূর্বক বিদ্যালয়গুলোকে ক, খ, ও গ- এই তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়, যা অত্যন্ত ধীরগতির।
ফলে সারাদেশে প্রায় ৬৩ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে এবং প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষাক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ইতোপূর্বে স্বীকৃতি প্রাপ্ত ৫৭টি এবং স্বীকৃতিবিহীন অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়গুলো এমপিও ভুক্তির জন্য অপেক্ষমাণ, যা অদ্যাবধি কোনো সুরাহা হয়নি।
পাঁছ দফা দাবির মধ্যে যা যা আছে
১। অনতিবিলম্বে সকল অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি ও এমপিও ভুক্তি সুনিশ্চিত করতে হবে।
২। সকল বিশেষ বিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো সুনিশ্চিত করতে হবে।
৩। বিশেষ শিক্ষার্থীদের নূন্যতম শিক্ষা ভাতা ৩ হাজার টাকা নিশ্চিত করতে হবে।
৪। শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলসহ শিক্ষা উপকরণ, খেলাধুলা সরঞ্জাম প্রদান ও থেরাপি সেন্টার বাস্তবায়ন করতে হবে।
৫। ছাত্র-ছাত্রীদের ভোকেশনাল শিক্ষা কারিকুলামের আওতায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ব্যক্তিদের কোটা অনুযায়ী চাকরি সুনিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২২/০৭/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
