এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান ও বিক্ষোভ

ঢাকাঃ শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ৮টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) ব্যানারে এ অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।

পরে দুপুর ১২টায় এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে কদম ফোয়ারা ও পুরান পল্টন মোড় ঘুরে আবার একই স্থানে এসে মিলিত হয়।

শিক্ষকদের দাবি, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে আসন্ন ঈদুল আজহার পূর্বেই পূর্ণাঙ্গ উৎসবভাতা, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা দিতে হবে৷ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিও জানান তারা।

লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, আমরা শুধু নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের ব্যাপারে কথা বলছি। আমরা শিক্ষার সবচেয়ে বেশি কাজ করি কিন্তু সুযোগ-সুবিধার সময় বঞ্চিত হই। তাই আমাদের দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে। দাবি পূরণ না হলে আগামীকাল দুপুরে লংমার্চ টু সচিবালয় কর্মসূচি পালন করা হবে।

শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো-

১. শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের লক্ষ্যে বাজেটে শিক্ষা খাতে ইউনেস্কোর সুপারিশ মোতাবেক জিডিপি’র ৬ শতাংশ বরাদ্দ করা। ২. আসন্ন ঈদ-উল আযহা’র পূর্বেই সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়িভাড়া ও চিকিসাভাতা প্রদান করা। ৩. সরকারি স্কুলের ন্যায় বেসরকারি স্কুলের ‘প্রধান শিক্ষক’-এর বেতন স্কেল ৬ষ্ঠ গ্রেডে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকদের ৭ম গ্রেডসহ টাইম স্কেল প্রদান করা। ৪. এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সার্বজনীন বদলি প্রথা চালু করা। ৫. সরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় পেনশন প্রথা চালুকরণ এবং চালু না হওয়া পর্যন্ত অবসর গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা প্রদানসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন বন্ধ করা। ৬. শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির বয়স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় ৬৫ বছরে উন্নীত করা। ৭. পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ন্যায় শিক্ষক নিয়োগ কমিশন গঠন এবং শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আনুপাতিক হারে এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের পদায়ন করা। ৮. ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি প্রথা বিলুপ্ত করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যায় পরিচালনা করা। ৯. সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির জন্য শিক্ষকদের উপর অসত্য অপবাদ দিয়ে হামলা, হয়রানি ও চাকুরিচ্যুতি বন্ধ করা। ১০. শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন করা। ১১. স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভূক্ত করার জোর দাবি।

গত ১৭ মে থেকে ১১ দফা দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তারা। কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দুই শতাধিক শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২০/০৫/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.