রংপুরের আবু সাঈদ হ-ত্যার তদন্ত প্রতিবেদন ৯ এপ্রিল

রংপুরঃ রংপুরের আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৯ এপ্রিলের মধ্যে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তবে এই মামলায় প্রধান আসামি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টে গণহত্যার অভিযোগ তদন্তের আলাদা প্রতিবেদন চলতি মার্চের মধ্যেই দেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

রংপুর কারমাইকেল কলেজের ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদ। কোটা বাতিলের দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন ১৬ জুলাই পুলিশের গুলির সামনে বুক পেতে প্রথম শহীদ হয়েছিলো আবু সাঈদ।

শহীদ আবু সাঈদের এই দুঃসাহসিক মৃত্যুবরণ আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তার মর্মান্তিক এই মৃত্যুবরণ স্থান পায় জাতিসংঘের প্রতিবেদনে। গত ১৩ জানুয়ারি আলোচিত এই হত্যার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় অভিযোগ জমা দেয় আবু সাঈদের পরিবার। হত্যার জন্য শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে দায়ী করা হয়।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যার ঘটনায় চার জনকে আগামী ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই তারিখের মধ্যে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল রোববার এ আদেশ দেয়।

পরে ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, যারা সরাসরি গুলি করেছিল তাদের মধ্যে দুজন– একজন হচ্ছেন এসআই আমির হোসেন, আরেকজন কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। আর অন্য দু্‌ই আসামি হলেন সেই সময়ে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম এবং ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশ।

তাজুল ইসলাম বলেন, আগামী ৯ এপ্রিল তাদের এই ট্রাইব্যুনালে প্রডিউস (হাজির) করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু আবু সাঈদের ঘটনাটি তদন্ত প্রায় সমাপ্ত হয় গেছে, ৯ এপ্রিলের মধে আমরা আশা করছি আবু সাঈদের ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট এই আদালতে দাখিল করা সম্ভব হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন সাঈদ। ওই ঘটনায় ১৮ অগাস্ট আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন এ মাসের মধ্যেই পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান আসামি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে তদন্ত রিপোর্ট সেটা আমরা আশা করছি এ মাসের মধ্যেই পেয়ে যাব। শেখ হাসিনার ‘নির্দেশেই’ গোটা বাংলাদেশজুড়ে ওই অপরাধ সংঘটিত হয় বলে মন্তব্য করেন তাজুল ইসলাম।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০২/০৩/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.