নিজস্ব প্রতিবেদক।। ফাল্গুনের মাঝামাঝি সময়ের আরামদায়ক আবহাওয়ায় এবার রমজান মাস শুরু হয়েছে। এমন আবহাওয়ায় সারা দিনে পানির চাহিদা খুব বেশি অনুভব না-ও করতে পারেন আপনি। অবশ্য যাঁদের অত্যধিক কায়িক শ্রম করতে হয়, তাঁদের কথা আলাদা। তৃষ্ণায় খুব একটা কষ্ট না পেলেও সুস্থ থাকতে সারা দিনের পানির চাহিদার কথা কিন্তু মাথায় রাখতেই হবে। সেভাবেই পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত। আর দিন দশেক পর চৈত্র মাস শুরু হয়ে গেলে তো প্রকৃতির উষ্ণতাতে শরীরই জানান দেবে পানির ঘাটতির কথা।
ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত সময়ে আপনাকে এমনভাবে পানি এবং তরল খাবার খেতে হবে, যাতে ২৪ ঘণ্টার পানির চাহিদা মিটে যায়। তার মানে কিন্তু এই নয় যে আপনি সাহ্রির শেষ মুহূর্তে এক-দেড় লিটার পানি খেয়ে নেবেন; বরং দেহের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখতে আপনাকে পানি খেতে হবে ধাপে ধাপে। পানি ও তরল খাবারের পাশাপাশি এমন ফলমূলও খেতে হবে, যাতে পর্যাপ্ত পানি থাকে। রমজান মাসে পানিশূন্যতা এড়াতে কী করা প্রয়োজন, সে সম্পর্কে জানালেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মতলেবুর রহমান।
পানি তো খাবেনই। নানা রকম পানীয়ও খেতে পারেন। লেবুপানি, ডাবের পানি, চিড়ার পানি, শরবত, দুধ, স্মুদি, মিল্কশেক—এসবে আপনার পানির চাহিদা মিটবে। চিয়া সিড বা তোকমা দানা ভেজানো পানি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটিও খেতে পারেন ইফতারে। তবে একবারে অনেকটা পানি কিংবা পানীয় খাবেন না। ভরপেট পানি খেলে অস্বস্তি হতে পারে। তাই রয়েসয়ে খান। রাতের বিভিন্ন সময়ে পানি কিংবা পানীয় খান। খাবার এবং পানি বা পানীয় গ্রহণের মাঝখানে ১৫–২০ মিনিটের ব্যবধান রাখুন।
ইফতারে ফলের সালাদ রাখতে পারেন। রাতে কোনো এক ফাঁকে দু–একটি আস্ত ফলও খেতে পারেন। আপেল, নাশপাতি, পেঁপে, আনারস, মালটা, কলা প্রভৃতি ফল খাবেন। শসা ও টমেটো খাওয়াও ভালো। ভাতের সঙ্গে যেকোনো তরকারির ঝোল খেতে পারেন। লাউ, কাঁচা পেঁপে বা চালকুমড়ার তরকারি খাওয়া ভালো। তরল খাবার হিসেবে ডাল রাখতে পারেন রাতের খাবার ও সাহ্রির জন্য।
পানীয়মাত্রই যে দেহের পানির ভারসাম্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, তা কিন্তু নয়। ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের কথাই ধরা যাক। এসব পানীয় খেলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে। অর্থাৎ দেহ থেকে পানি বেরিয়ে যায়। তাই চা, কফি, কোমলপানীয় ও চকলেটমিশ্রিত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। তবে অনেকেই আবার চা-কফির প্রতি নির্ভরশীল। চা-কফি একেবারে বাদ দেওয়াটা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাঁরা ইফতারের পর অল্প চা-কফি খেতে পারেন। তাহলে পানির ঘাটতি পূরণ করার সময় পাবেন রাতে, আবার রাতের ঘুমের তেমন ব্যাঘাতও ঘটবে না। তবে সাহ্রিতে চা, কফি, কোমলপানীয় বা চকলেটমিশ্রিত পানীয় না খাওয়াই ভালো। এ সময় ক্যাফেইন গ্রহণ করলে দিনে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়বে।
সুফিয়ান প্রতিদিন ১ গ্যালন পানি খাওয়ার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন শুধু হাইড্রেশনের জন্যই নয়, এর মাধ্যমে এমন একটি অভ্যাসকে তিনি আয়ত্তে আনতে চেয়েছিলেন।
এ ছাড়া কোনো বেলাতেই বেশি পরিমাণ চিনি মেশানো পানীয় গ্রহণ করা উচিত নয়। এসবও প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে বাড়ে পানিশূন্যতার ঝুঁকি। তাই কোমলপানীয় ও প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে চলুন। চিনিমেশানো যেকোনো পানীয় ওজন বাড়ার জন্যও দায়ী।
পর্যাপ্ত পানি খাচ্ছেন কি
পর্যাপ্ত পানি খাচ্ছেন কি না, তা বোঝার জন্য প্রস্রাবের সময় এর রং খেয়াল করুন। হালকা হলুদ বা হালকা খড়ের মতো রং স্বাভাবিক। গাঢ় রঙের প্রস্রাব পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে। পানিশূন্যতা হলে প্রস্রাবের পরিমাণও কমে যেতে পারে। মুখ ও ত্বক শুষ্ক হওয়া, চোখ বসে যাওয়া প্রভৃতি সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এমন সমস্যা দেখা দিলে বুঝবেন, আজ ইফতারের সময় থেকে পানি একটু বেশি খেতে হবে।
শিক্ষাবার্তা /এ/০৫/০৩/২০২৫
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
