রাজশাহীঃ রাজশাহীর স্কুলগুলোতে এখনো শতভাগ বই পৌঁছায়নি। প্রাথমিকের কোনো বই হাতে পায়নি প্রথমিক শিক্ষা অফিস। মাধ্যমিক পেয়েছে মাত্র ছয়টি বই। তবে সেগুলোও পর্যাপ্ত নয়। কবে বই পৌঁছাবে সেটিও নিশ্চিত নন শিক্ষা কর্মকর্তারা। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, বছরের প্রথম দিন বই হাতে না পেলেও খুব শিগগির সব বই হতে পাবে শিক্ষার্থীরা।
রাজশাহী জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলায় ১৩ লাখ ৩ হাজার ৩৮৬ বইয়ের চাহিদা রয়েছে। তবে মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলার চাহিদার অনুকূলে কোনো বই হাতে পায়নি শিক্ষা অফিস।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, রাজশাহীতে মাধ্যমিকে (বাংলা ভার্সন) মোট শিক্ষার্থী দুই লাখ ২৮ হাজার ৯৬০ জন। এর বিপরীতে বইয়ের চাহিদা ৩৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭৫টটি। দাখিলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ হাজার ১৫০ জন, এর বিপরীতে বইয়ের চাহিদা সাত লাখ ১০ হাজার ১৫০টি; মাধ্যমিক (ইংলিশ মিডিয়াম) শিক্ষার্থী ৮৪০ জন। এর বিপরীতে বইয়ের চাহিদা ১১ হাজার ৩৮৫টি। ইবতেদায়ী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৪ হাজার ২০০ জন। এর বিপরীতে চাহিদা তিন লাখ ৪৬ হাজার ৮৮০টি বইয়ের।
কারিগরী শিক্ষার্থী রয়েছে ১৩ হাজার ৬০০ জন। এর বিপরীতে চাহিদা তিন লাখ ৫১ হাজার ৫০৫টি বইয়ের। জেলায় মোট বইয়ের চাহিদা ৪৭ লাখ ৬৪ হাজার ২৯৫টি বই। এর বিপরীতে মাত্র দুটি শ্রেণির তিনটি করে বই পাওয়া গেছে। তবে সেটি কী পরিমাণ তা জানাতে পারেনি শিক্ষা অফিস।
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. নূরজাহান বেগম বলেন, ‘নতুন বই এখনো হাতে পাইনি। বছরের শুরুতে বই না থাকলেও পুরোনো বই দিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবো। বছরের শুরুতে একটু অতিরিক্ত শিক্ষাক্রম থাকে। দু-একটি ক্লাস নেওয়া হবে। আজকালের মধ্যেই বই চলে আসবে।’
এখনো একটি বইও পাননি বলে জানান রাজশাহী সরকারি ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ড. শাহনাজ বেগম। তিনি বলেন, মাধ্যমিক কিংবা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে আমাদের বই নেওয়ার জন্য ডাকেনি। যেহেতু বই পাইনি তাই এসময় আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শুরু করে দেবো। এগুলো শেষ হতে হতে আমাদের অন্তত ১৫ দিন লেগে যাবে। আশা করছি এরই মধ্যে বই চলে আসবে। তখন আমরা পাঠদান বা একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করবো।’
রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা এবার কোনো বই-ই পাইনি। তবে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে সমন্বয় করছি। কাল প্রথম দিনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বই অন্য জেলা থেকে নেওয়া হচ্ছে। রাতেও কিছু বই এলে সেগুলো আগামীকাল বিতরণ করা হবে।’
জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল আজিজ সরদার বলেন, আজ পর্যন্ত মাদরাসার বাংলা, ইংরেজি ও গণিত সপ্তম শ্রেণির দেওয়া হয়েছে। স্কুলের বাংলা, ইংরেজি ও গণিত ষষ্ঠ শ্রেণির বই বিতরণ করা হচ্ছে। অন্য কোনো ক্লাসের বই আসেনি। এবার মাত্র একটি শ্রেণির বই এসেছে। বাকিগুলো আসেনি। এবার বই আসতে বেশ ভালো সময় লাগবে বলে মনে হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার বলেন, অল্প অল্প করে বই আসছে। দুটি শ্রেণির মাধ্যমিকের বই এসেছে। তবে প্রাথমিকের কোনো বই আসেনি। আমরা পার্শ্ববর্তী জেলায় সমন্বয় করছি। আশা করছি খুব শিগগির বই হাতে পেয়ে যাবো।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/৩১/১২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
