এইমাত্র পাওয়া

শিক্ষকের সঙ্গে কলেজছাত্রীর ৭ মিনিটের আপত্তিকর ভিডিও

কুড়িগ্রামঃ কুড়িগ্রামের রৌমারীতে এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে স্কুলশিক্ষকের আপত্তিকর ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই শিক্ষকের নাম মোতাহারুল ইসলাম।

তিনি রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা বেগম মজিদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু পরিষদ দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক। আর ছাত্রী রৌমারীর একটি কলেজের শিক্ষার্থী।

সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ওই ছাত্রী নিজে তার মোবাইলে ভিডিও চালু করে এটি রেকর্ড করেছেন। স্কুলশিক্ষকের এমন কর্মে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্তসহ আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছেন কেউ কেউ।

সাত মিনিটের ভিডিওটির শুরুতে দেখা গেছে, ওই ছাত্রী একটি কক্ষে গিয়ে তার মোবাইল ফোনে ভিডিও অপশন চালু করে একটি গোপন জায়গায় রেখে কার্টুন পেপার দিয়ে ঢেকে দেন। এর কয়েক মিনিট পরে শিক্ষক মোতাহারুল ইসলাম এসে ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ভিডিওটি অনেকের মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে একাধিক ব্যক্তি জানান, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে শিক্ষক মোতাহারুল ইসলামের বাড়িতে ভাগ্নিকে প্রাইভেট পড়াতে নিয়ে যেতেন ওই কলেজছাত্রী। এ থেকে তাদের মাঝে একটি সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শিক্ষকের স্ত্রী সন্তান রয়েছে। গোপনে তারা অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতো।

বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। শিক্ষক মোতাহারুলের স্ত্রী বলেন, গত জুলাই মাসে ভিডিওটি তিনি দেখতে পান। তারপর থেকে স্বামী মোতাহারুলের সঙ্গে পুরোপুরি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। স্ত্রীর কাছে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করার কথা বললেও বিয়ের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাকে ও তার দুই মেয়েকে ভরণপোষণও দিচ্ছে না শিক্ষক মোতাহারুল। এর বিচার দাবি করেছেন তার স্ত্রী।

শিক্ষক মোতাহারুল ইসলাম আপত্তিকর ভিডিও তারই বলে স্বীকার করে বলেন, ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেছি। বিষয়টি সমাধান হয়েছে। স্ত্রী-সন্তানকে ভরণপোষণ না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাওলানা মো. শাজাহান আলী বলেন, ছাত্রীর পরিবার ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিষয়টি একাধিকবার শালিসে বসা হয়েছিল। কিন্তু সমাধান হয়নি।

এ ব্যাপারে দাঁতভাঙ্গা বেগম মজিদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ভিডিওটির কথা শুনেছি। ছাত্রী অন্য প্রতিষ্ঠানের। তাই আমার কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঈনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। বিষয়টি মিডিয়ায় আসলে তদন্ত করে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারবো।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৫/১২/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.