নিজস্ব প্রতিবেদক।। নানা অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ বাতিল করেছে। জমির মালিকরা জোর করে দখলকৃত তাদের ভূমি ফেরত চাইছেন। অপরদিকে দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবি শিক্ষার্থীদের।
সোমবার সন্ধ্যায় ভূমি অধিগ্রহণ বাতিল সম্পর্কে তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
তিনি বলেন, চাঁদপুরে যোগদানের পূর্বেই অধিগ্রহণ প্রস্তাব বাতিল করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৬২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের আলোচিত সেলিম খান জোরপূর্বক অনেক পরিবারকে জমি বিক্রি করতে বাধ্য করে। এছাড়া জমির বাজার দরের চাইতে তাদেরকে কম দাম দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন ভূমি অধিগ্রহণ বাতিল করে। এমন সংবাদে আনন্দিত জমির মালিকরা।
ভুক্তভোগী জমির মালিক কালু খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় করার নাম করে আমার কাছ থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ জমি সেলিম খান জোরপূর্বক নিয়ে গেছে। আমি দিতে রাজি হইনি। তার লোকজন দিয়ে আমাকে ধরে এনে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জমি লিখে নেয়। দাম ৩৭ লাখ টাকা হলেও, দিয়েছে ১২ লাখ। এখন আমি আমার জমি ফেরত চাই। লক্ষ্মীপুর গ্রামের আরেক বাসিন্দা কাজল ও হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের বসতবাড়ি ছিল। সেলিম চেয়ারম্যান দীপু মনির প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করে। কিন্তু এখন তো আর বিশ্ববিদ্যালয় হলো না। আমাদের জমি আমরা ফেরত চাই।
অপরদিকে চাঁদপুর শহরে ওয়াবদা গেইট খলিশাডুলি এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্পাসে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সিয়াম ও নিহাল বলেন, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও তার ভাইয়ের দুর্নীতির কারণে সরকার ভূমি অধিগ্রহণ বাতিল করে দিয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের ব্যবস্থা করা এবং জমি বরাদ্দ দেওয়া হউক।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে। আগে যে স্থানে ভূমি অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল তা বাতিল করা হয়েছে। সেই জায়গায় আর বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে না। নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পেলে আমরা নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য কাজ করবো।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৯ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভা। সংসদে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে বিল পাস হয় ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। ২০২৩ সালে ৯০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে তিন বিভাগে দুই ব্যাচে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৮০ জন।
শিক্ষাবার্তা ডট কম /এ/২৯/১০/২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
