রাজশাহী: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনকোর্স পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষায় বাধা দেওয়া ও কোর্স শিক্ষককে অপমান করে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিভাগের সভাপতির বিরুদ্ধে।
রবিবার (২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুপুরে সভাপতির পদত্যাগ চেয়ে রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক হলেন- সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন এবং অভিযুক্ত শিক্ষক বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শেখ কবির উদ্দিন হায়দার।
অভিযোগপত্র ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানায়, রুটিন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন অ্যাকাডেমিক ভবনের ১৫৬নং কক্ষে অধ্যাপক তানজিমা জোহরা হাবিবের ক্লাস নেয়ার কথা ছিল। তবে ক্লাস প্রতিনিধি অধ্যাপক তানজিমা জোহরা হাবিবের সাথে সমন্বয় করে ওই কক্ষে ইনকোর্স পরীক্ষা নেয়া যাবে বলে জানান অধ্যাপক এমাজ উদ্দীনকে। সে অনুযায়ী রবিবার দুপুর পৌনে ২টায় ইনকোর্স পরীক্ষা নিচ্ছিলেন অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন।
পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ পর বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কবির উদ্দিন হায়দার কক্ষে ঢুকে বসে পড়েন এবং ওই কক্ষে তার ক্লাস আছে বলে জানান। এমনকি সেখানেই ক্লাস নিবেন বলে ইনকোর্স পরীক্ষার মাঝে বাধা সৃষ্টি করে পরীক্ষা বন্ধ করে দেন এবং কোর্স শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীদের সম্মুখে খুব খারাপ ব্যবহার করেন।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এমন ঘটনার জেরে অধ্যাপক ড. এমাজ উদ্দিন আর কোনো ক্লাস-পরীক্ষা নেবেন না বলে জানিয়েছেন। করোনা মহামারীর জন্য ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অনেক পিছিয়ে আছে। এ অবস্থায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক হুমকিস্বরুপ।
বিষয়ে অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন বলেন, একটা পাবলিক পরীক্ষা চলাকালীন এ ধরনের কর্মকাণ্ড কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বিভাগের সভাপতি হয়ে দায়িত্ব-জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। আমি চাই প্রশাসন এর তাৎপর্যপূর্ণ সমাধান করুক। এর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আমি কোনো ধরনের ক্লাস এবং পরীক্ষা নেব না।
এ বিষয়ে সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. কবির উদ্দিন হায়দার বলেন, কে বা কারা কিসের ভিত্তিতে অভিযোগ দিয়েছে আমি জানি না। আমি তাদের পরীক্ষা বন্ধ করিনি। বরং তারা নিজেরাই তাদের পরীক্ষা বন্ধ করে আমাকে দায়ী করছে। যদি এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী এর সমাধান করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক তারিকুল হাসানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৩/০৬/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
