শৈলকুপায় অভিভাবকের অভিযোগে দুই মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেফতার

ঝিনাইদহ: জেলার শৈলকুপায় চুরির অপবাদে এক মাদরাসাছাত্রের ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাত ১০টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার শিক্ষকেরা হলেন শৈলকুপার হাটফাজিলপুর মুহাম্মাদিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাহমুদ হাসান ও মাহাদী হাসান।

শুক্রবার (৩১ মে) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম চৌধুরী।

জানা যায়, গত ২৭ মে মাদরাসায় ঘড়ি চুরির অপবাদ দিয়ে ওই মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র তাওহীদ হোসেনকে রাতের আঁধারে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারপিট করেন শিক্ষক মাহমুদ ও মাহাদী। ঘণ্টাব্যাপী চলে বর্বোচিত অত্যাচার। এতেই ক্ষ্যান্ত হয়নি ওই শিক্ষকেরা। পরে দুদিন তাকে আটকে রাখা হয় একটি রুমে। সুযোগ বুঝে পরে ছাত্র তাওহীদ পালিয়ে যায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে। এখন সে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বেডে কাতরাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৯ বছরের তাওহীদ হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। সারা শরীরে দগদগে সেই ক্ষত।

তাওহীদ জানায়, মাদরাসা থেকে পালিয়ে সে প্রথমে তার ফুফু বাড়ি যায়। এরপর বাবা-মাকে খবর দিলে তারা তাকে ২৯ মে শৈলকূপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সে আরো বলে, ‘আমি অনেক কাকুতি মিনতি করেছি কিন্তু তারা আমাকে ছাড়েনি। আমি চুরি করিনি।’

বাবা মান্নান বিশ্বাস বলেন, ‘বিচার ছাড়া কিছু চাই না। শিক্ষকেরা যে অভিযোগ এনেছে তা মিথ্যা। এদিকে এলাকাবাসী এ নির্যাতনের শাস্তির দাবি জানান।

শৈলকুপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা শোহেলি ইসলাম জানান, আগের চেয়ে রোগীর অবস্থা এখন অনেকটা উন্নতির দিকে।

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ওই ছাত্র ও তার অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করি। পরে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন তারা। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় দুই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.