রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হলে ডাইনিংয়ের খাবারে সিগারেট পাওয়ার অভিযোগ তুলে ফটকে তালা দেওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এক সভায় এ সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। ছাত্রলীগের বাধার কারণে ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারা এবং ছাত্রলীগ দ্বারা নিয়মিত হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেছেন প্রাধ্যক্ষরা। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে, তারা একসঙ্গে পদত্যাগ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
হলে ভাঙচুর ও প্রাধ্যক্ষ হেনস্তা এবং অন্য হলগুলোতে চলমান সমস্যা নিয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সভা করে প্রাধ্যক্ষ পরিষদ। এতে উপস্থিত ছিলেন উপউপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবির, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম সাউদ ও প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক।
সভা সূত্রে জানা গেছে, সভায় সব হলের প্রাধ্যক্ষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ছাত্রলীগের বিশৃঙ্খল আচরণে তারা অতিষ্ঠ। দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নিলে প্রাধ্যক্ষরা একযোগে পদত্যাগ করবেন। তবে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গত সোমবার নবাব আব্দুল লতিফ হলে ডাইনিংয়ের খাবারে সিগারেটের অবশিষ্টাংশ পাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রাধ্যক্ষ কক্ষ ও অতিথি কক্ষে ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছিলেন বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে হলে এলে প্রাধ্যক্ষকে ঢুকতে দেয়নি আন্দোলনকারীরা। ফটকে লাল কাপড় ঝুলিয়ে প্রাধ্যক্ষকে প্রতীকী লালকার্ড দেখানো হয়। এ ঘটনা তদন্তে হলের আবাসিক শিক্ষক ড. অনিক কৃষ্ণ কর্মকারকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ও নবাব আব্দুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ এইচ এম মাহবুবুর রহমানের দাবি, হল ছাত্রলীগের নেতা তৌহিদ, ইমরান, মামুদ ও তাদের অনুসারীরা তাঁকে গালমন্দ ও হেনস্তা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তঃহল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে তৌহিদ ও মাসুদ প্রায় ২০ জনের পোশাক চান। কিন্তু হল প্রশাসনের বাছাইকৃত খেলোয়াড়ের বাইরে অন্য কাউকে পোশাক দিতে অসম্মতি জানালে খাবারে সিগারেট পাওয়ার ঘটনা সাজিয়ে হলে ভাঙচুর চালায় তারা।
অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা তৌহিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ভিন্নখাতে নিতেই ছাত্রলীগের নামে এমন অভিযোগ তুলছেন প্রাধ্যক্ষ।
প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, আমরা প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সব কথা শুনেছি। অভিযুক্তদের কথাও শুনব। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপউপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, প্রাধ্যক্ষদের অভিযোগগুলো জেনেছি। এ বিষয়ে দ্রুতই কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৯/০৫/২২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
