একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযুদ্ধ শুরু

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিয়মিত যুদ্ধ শুরু হয় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নিয়ে। কাক্সিক্ষত কলেজে ভর্তির জন্য নির্ঘুম রাত কাটে শিক্ষার্থী আর অভিভাবকদের। ভর্তি নিয়ে এত হইহুল্লড়ের পর দেখা যায় কতিপয় কলেজ শিক্ষার্থীশূন্যতায় ভোগে। কোথাও কোথাও অনুমোদিত আসনের বিপরীতে ভর্তি হয়নি পঞ্চাশ শতাংশ শিক্ষার্থী। শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা বলছেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। ভালো কলেজগুলোতে বাড়বে ভর্তির প্রতিযোগিতা আর অপেক্ষাকৃত মানহীন কলেজগুলোয় শিক্ষার্থীশূন্যতায় আসন ফাঁকা থাকবে।

গত রবিবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। অন্যবারের মতো এবারও পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনে হবে। এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১৬ লাখ ৭২ হাজার ১৫৩ জন। অন্যদিকে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আসন রয়েছে ২৪ লাখ ৪০ হাজার ২৪৯টি। সেই হিসাবে ৭ লাখ ৬৮ হাজার ৯৬টি আসন খালি থেকে যাবে। মূলত নামিদামি কলেজের আসন পেতে ভর্তির মূল লড়াইটা হবে।

বাংলাদেশ শিক্ষা, তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) হিসাবে দেখা গেছে, সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে আট হাজার ৮৬৪টি। এর মধ্যে মানসম্মত

কলেজের সংখ্যা মাত্র দেড় থেকে দুই শ। এসব কলেজে আসনসংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারের মতো। এর বিপরীতে এ বছর এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ শিক্ষার্থী। সে হিসাবে তাদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই ভালো মানের কলেজে ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। অর্থাৎ ভালো ফল করার পরও নামিদামি কলেজে ভর্তি পেতে প্রতিযোগিতা বাড়বে। চাইলেও সবাই পছন্দের ভালো কলেজে ভর্তি হতে পারবে না।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা ঢাকাসহ বিভাগীয় বড় কলেজে ভিড় করে। শুধু জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদেরই সুযোগ করে দেওয়ার মতো প্রতিষ্ঠান ঢাকা ও দেশের বড় শহরগুলোতে নেই।

ব্যানবেইসের হিসাবে ঢাকা বিভাগে ৭০টি, রংপুর বিভাগে ২৯টি, বরিশাল বিভাগে ১২টি, রাজশাহী বিভাগে পাঁচটি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৭টি, খুলনা বিভাগে ১১টি এবং সিলেট বিভাগে ২২টি মোটামুটি মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব কলেজে নিজ নিজ বিভাগের জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভিড় করলে সবার সংস্থান হবে না। সে ক্ষেত্রে বাকিরা পড়বে বিপদে। আবার রাজধানীতে মোট ১৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণি রয়েছে। এসব কলেজে মোট আসন আছে ৪৩ হাজার ৫১৯টি। এর মধ্যে ভালো মানের কলেজ আছে মাত্র ২০ থেকে ২২টি, যেখানে আসনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার।

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বাহারি নামের কলেজগুলো নানাবিধ কৌশলে আগে শিক্ষার্থী ভর্তি নিত। এখন অনলাইন ভর্তি নেওয়ায় এ ধরনের কলেজগুলোয় আগ্রহ নেই শিক্ষার্থীদের। লেখাপড়ার মান ভালো না করা এবং অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়ায় ইমেজ সংকটে পড়বে অনেক কলেজ। ভর্তিযুদ্ধ কেবল মন্দের ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোয়। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো গুটিয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে এবার।

তবে প্রশ্ন উঠেছে শহরে অলি-গলিতে গড়ে ওঠা নামসর্বস্ব এসব কলেজের অনুমোদন নিয়ে। একই পাড়া-মহল্লায় একাধিক কলেজের অনুমোদন নিয়ে ঝুলানো হয়েছে কলেজের সাইনবোর্ড।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাম্মেল হক চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, একে তো অনলাইন ভর্তি; আরেক হলো এখন কেউ আর নাম দেখে ভর্তি হয় না কলেজে। কোনটির বিগত ফলাফল কি সেগুলো বিবেচনায় নেয়। আরেকটি কারণ হলো- এখন বাসায় বাসায় গিয়ে মার্কেটিং করে কলেজগুলো শিক্ষার্থী টানতে পারছে না। ভর্তি পদ্ধতি অনলাইনে পছন্দ দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। একই মহল্লায় একাধিক কলেজ কেন থাকবে- এ প্রশ্নও রাখেন এই শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, এখন টাকা হলেই একটি স্কুল-কলেজ খোলা যায়। ওটা প্রস্তাবিত এলাকায় দরকার আছে কী নেই, সেটা যাচাই করার চেয়ে দেখা হয় এটা কোন এমপি-মন্ত্রীর দাবি ইত্যাদি।

এ প্রসঙ্গে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার জানান, সরকার নামসর্বস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে কঠোর। আসনের চেয়ে কম শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়া অনেক প্রতিষ্ঠানের আসন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী কম ভর্তি হলে আসন কমিয়ে দেওয়া, বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত আমরা নেব।

এদিকে আগামী ২৬ মে থেকে ভর্তির আবেদন শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে ভর্তির নিয়মাবলি, কোটা, অন্য শর্তাবলি চূড়ান্ত করে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা শিগগির জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.