ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ জেলার নবীনগর পৌর এলাকার করিমশাহ ১৮৫ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা রাজিয়ার বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি, ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) এর জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ থেকে আড়াইশ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সোমবার (১৮ মার্চ) নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী ময়না বেগম জানান, গতবছর আমার ছেলে আবু হুরাইরাকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করতে নিয়ে গেলে তারা ভর্তি ফরম বাবদ ৩০ টাকা ও ভর্তি ফি বাবদ ২০০ টাকা, মোট ২৩০ টাকা নিয়েছে। এবার ২০২৪ সালে আমার আরেক ছেলে সাকিবুলকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করাতে নিয়ে গেলে সরকার আইন করেছে বলে ভর্তি ফরম বাবদ ৫০ টাকা ও ভর্তি ফি বাবদ ২০০ টাকা, মোট ২৫০ টাকা দিতে বলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অন্য স্কুলে নিয়ে ভর্তি করাতে বলেন। এ বিষয়ে একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক খাইরুন নাহার লিপা আক্তারের সাথে তর্কবিতর্ক হয়।
ভুক্তভোগী লোকমা বেগম বলেন, আমার ভাইয়ের মেয়ে মিম, বিয়াইনের ছেলে সজীবকে ভর্তি করাতে নিয়ে গেলে ফরম ফিলাপ ফি বাবদ ৫০ টাকা ও ভর্তি ফি বাবদ ২০০ টাকা, দুইজনের মোট ৫০০ টাকা দিতে বলেন। এসময় ৫০ টাকা কম রাখতে বললে লিপা বলেন প্রধান শিক্ষকের নির্দেশ কম রাখা যাবে না। আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা রাখেন।
ভুক্তভোগী লিনা বলেন, আমার বাচ্চা জান্নাতকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করাতে নিয়ে গেলে সহকারী শিক্ষক লিপা ও মাহমুদা আক্তার আমার কাছ থেকে ২৫০ টাকা নিয়েছে।
অভিযোগকারী নিপা আক্তার ও রাবেয়া খাতুন জানান, চলতি বছর আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে করিমশাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। প্রধান শিক্ষক সুলতানা রাজিয়া ভর্তির জন্য ২৫০ টাকা এবং ৫ম শ্রেণির টিসি ফি বাবদ ২০০ টাকা আদায় করেন। প্রতিবছর বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে থাকেন। কিন্তু তিনি আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুল চলাকালীন সময়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করান। এবিষয়ে আমরা প্রতিবাদ করলে ছেলে-মেয়েদের অন্য স্কুলে ভর্তি করতে বলেন প্রধান শিক্ষক।
এছাড়াও স্কুলে অনেকদিন অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায় ওই প্রধান শিক্ষককে। বিষয়টি তদন্তের জন্য আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
এ বিষয়ে করিম শাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন নাহার লিপা বলেন, প্রধান শিক্ষক সুলতানা রাজিয়ার নির্দেশ অনুযায়ী ভর্তি ফরম ফিলাপ বাবদ ৫০ টাকা ও ভর্তি ফি বাবদ ২০০ টাকা মোট ২৫০ টাকা নিয়েছি।
সহকারী শিক্ষক লাকি বেগম বলেন, আমাদেরকে প্রধান শিক্ষক নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা সরকারি শিক্ষকগণ পক্ষে ছিলাম না। উপর থেকে যদি কোনো চাপ আসে এই কথা বলে আমরা বাধাও দিয়েছি উনি আমাদেরকে বলেন আমারটা আমি দেখব, তাছাড়া স্কুল চালাবো কিভাবে।
সহকারী শিক্ষক মাহমুদা বলেন, প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি টাকা নিয়েছি, শিক্ষার্থীদের কোন রশিদ দেয়নি খাতায় লিখে রাখছি, সেই খাতা প্রধান শিক্ষকের কাছে এখন আছে।
এ বিষয়ে করিম শাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুলতানা রাজিয়া জানান, আমার বিদ্যালয়ে টাকা নিয়ে ভর্তি করানোর কোন সুযোগ নেই। নিয়মের মধ্যেই আছি, কোন অভিভাবকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কোন টাকা নেওয়া হয় না।
এ বিষয়ে স্কুলের সভাপতি শাকিল রেজা জানান, এ বিষয়ে আমি অবগত নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল বলেন, নবীনগর করিমশাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিধি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। ৭ কর্ম দিবসের মধ্য তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর ফরহাদ শামীম বলেন, করিমশাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রধান শিক্ষক দায়ী বা অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষাবার্তা ডট কম/এএইচএম/২০/০৩/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
